• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫
শিরোনামঃ
অ্যাব এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের উপস্থিতিতে মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সান্তাহারে আশা আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ; ফ্যাক্টারী সিলগালা নীলফামারী আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা ধামইরহাটে সংঘাত নয়-শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুমকিতে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতার ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজগংয়ের হামলা পোরশায় কোয়ারেন্টাইনে মারা যাওয়া ছাগলের বদলে নতুন ছাগী পেল ৩২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু

ত্রিশালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিতে অনীহা পুলিশের

Reporter Name / ১৬৭ Time View
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

এম. আনোয়ার হোসেনঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে যৌতুকের দাবিতে এক সন্তানের জননী গৃহবধূকে (৩১) নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় দশ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী গত ১৭ এপ্রিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ত্রিশাল থানা কর্তৃপক্ষ। পুলিশের এমন রহস্যজনক নিরবতায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, আইনের আশ্রয় কি তবে কেবল প্রভাবশালীদের জন্য?

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে বীররামপুর ভাটিপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শামছুন্নাহারের। তাদের সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী হারুনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৪ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শামছুন্নাহারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। স্বামীর চাহিদা মেটাতে তিনি ভালুকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে উপার্জিত টাকা তুলে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

​গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভরণপোষণের কথা জিজ্ঞাসা করায় হারুন ও তার পরিবারের সদস্যরা শামছুন্নাহারের ওপর চড়াও হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২-৬ নং বিবাদীদের প্ররোচনায় ১ নং বিবাদী হারুন যৌতুকের দাবিতে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলাপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা-ফোলা জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন।

​ভুক্তভোগী নারী ওই দিনই থানায় অভিযোগ দাখিল করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তা মামলা হিসেবে রুজু করেনি। আইনের বিধান অনুযায়ী, আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য। এক্ষেত্রে পিআরবি ২৪৪ (ক) এবং সিআরপিসি ১৫৪ ধারা লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

​ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকা ভুক্তভোগী চোখের জল মুছে বলেন, আমি বিচার চাইতে থানায় গিয়েছি, কিন্তু পুলিশ আমাকে ঘুরাচ্ছে। প্রভাবশালী আসামিদের বাঁচাতেই কি পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে? আমি গরিব বলে কি আমার আইনি অধিকার নেই?

​আইনজ্ঞদের মতে, পিআরবি ২৪৪ (ক) অনুযায়ী কোনো আমলযোগ্য অপরাধের খবর প্রাপ্তিমাত্রই পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত না করা স্পষ্টতই আইন অমান্য করার শামিল। ত্রিশাল থানা পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা উচ্চ আদালতের নির্দেশনারও পরিপন্থী। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে যখন রাষ্ট্র ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে, তখন ত্রিশাল থানা পুলিশের এই টালবাহানা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক, অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রকট হবে।

এ অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব থাকা এসআই বাবুল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযোগটি তদন্তাধীন।

​এ বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com