June 5, 2026, 12:52 pm
শফিক টুটুল, পিরোজপুরঃ
চলতি মৌসুমে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধান কাটার শুরুতেই তীব্র শ্রমিক সংকটে পড়েছেন চাষীরা। শ্রমিকের অভাবে অনেক ক্ষেতেই সময়মতো ধান কাটতে না পারার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুরি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক মন ধানের দামে একজন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক জানান,, এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ থেকে শুরু করে কাটাই-মাড়াই ও ঘরে তোলা পর্যন্ত মোট খরচ পড়ছে প্রায়১৬–১৮ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ২০ মন ধান উৎপাদন হলেও বাজারে প্রতি মন ধানের দাম মিলছে মাত্র ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। সে হিসেবে মোট বিক্রয় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকার মতো, যা খরচের তুলনায় খুবই সামান্য লাভ বা অনেক ক্ষেত্রে লোকসানে পরিণত হচ্ছে। উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, এবার ফলন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট ও কম দামের কারণে আমরা লাভবান হতে পারছি না। সরকার যদি দ্রুত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে,তাহলে ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারি। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি অফিসার বাবুল আক্তার বলেন, ধান কাটার আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সরকারি সহায়তায় হারবেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কর্তন ও মারাই শুরু হয়েছে। সরকারি সহায়তা জোরদার করা হলে শ্রমিক নির্ভরতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।