June 13, 2026, 10:26 pm
মো: মেরুনুজ্জামান চৌধুরী বাপ্পী,উপজেলা প্রতিনিধি, নাগেশ্বরীঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৮ম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ওমর ফারুক (৪০), যিনি উপজেলার আনছারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ‘সৃষ্টি পাবলিক মডেল স্কুল’-এর পরিচালক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার টিএনটি মোড় এলাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নিজ বাসভবনে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুক ওই ছাত্রকে ফুসলিয়ে টিএনটি মোড়স্থ তার বাড়িতে নিয়ে যান। ওই সময় বাড়িতে শিক্ষকের স্ত্রী-সন্তান কেউ ছিলেন না। গভীর রাতে শিক্ষক ওমর ফারুক ছাত্রটিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ছাত্রটি রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রটি আর্তচিৎকার করলে তার নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় এবং জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়। রাতভর পৈশাচিক নির্যাতনের পর ভোর ৫টার দিকে ওই ছাত্রকে পুনরায় স্কুলের আবাসিকে রেখে সটকে পড়েন শিক্ষক।
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রটি কৌশলে তার বাবার কাছে অসুস্থতার খবর জানালে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরিবারের কাছে বিস্তারিত জানানোর পর তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে ‘সৃষ্টি পাবলিক মডেল স্কুল’ শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় শিক্ষক নূর ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন শিক্ষকের এমন আচরণ পুরো সমাজকে লজ্জিত করে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের সাহস না পায়।”
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা তুলে নিতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলমান থাকায় প্রতিবেদনটি জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হলেই দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হবে।”
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, “এই ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামী বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”