June 14, 2026, 7:03 pm

শিরোনাম :
নন্দীগ্রামে পিইপির মানবিক উদ্যোগে ৩১ হতদরিদ্র পরিবার পেল সহায়তা টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গোলা ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় বিল ইজারার দাবিতে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন সান্তাহারে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাকার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু নন্দীগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি নন্দীগ্রামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করলেন এমপি মোশারফ বাকেরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের চাল বিতরণ বাকেরগঞ্জে গাঁজা গাছসহ একজন গ্রেপ্তার

নন্দীগ্রামে ৭টি ট্রান্সফরমার চুরিতে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি, কৃষকদের ক্ষোভ

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:                                      বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কৃষকদের মাঝে। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪ জন কৃষকের মোট ৭টি সেচ ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মার্চ মাসের ১৬ তারিখে উপজেলার মাটিহাস গ্রামের কৃষক জাহিদুর রহমানের একটি ৫ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এরপর ২৪ মার্চ রাতে নাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের দুটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার এবং একই রাতে রায়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুস ছামাদের একটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। সর্বশেষ ২৫ মার্চ রাতে ভুস্কুর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের তিনটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে গভীর নলকূপ মালিকরা এখন চোরচক্রের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ট্রান্সফরমার বা মিটার চুরির পর একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে এবং সেখানে টাকা পাঠানোর পর চুরি হওয়া মালামাল ফেরত দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নতুন ধরনের অপরাধ কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকরা আরও জানান, তারা বিকাশ নম্বরসহ থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে চোরচক্র ধরা পড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কায়সার রেজা বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমি নিজে থানায় গিয়ে চোরচক্রের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
এদিকে, বারবার এমন চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় চলতি কৃষি মৌসুমে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নন্দীগ্রামে ট্রান্সফরমার চুরির এই ধারাবাহিক ঘটনা শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং এই চক্রের লাগাম টেনে ধরতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *