পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পোরশায় চলতি জুলাই মাসে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাপে কাটা রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে না এনে ওঝার কাছে নিয়ে চিকিৎসা দিতে দেরি করায় হাসপাতালে আনার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া ১১ জন রোগীর মধ্যে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় ১০ জনই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বিষাক্ত সাপের কামড়ের সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়ায় ২ জন রোগীকে জরুরিভিত্তিতে জীবনরক্ষাকারী ‘এন্টিভেনম’ প্রদান করা হয়। এছাড়া ১ জন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
তবে জুলাই মাসে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়নি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ২ জন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয় (ব্রট ডেড)। চিকিৎসকরা জানান, ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করায় এবং হাসপাতালে নিয়ে আসতে অতিরিক্ত দেরি করার কারণেই তাদের প্রাণহানি ঘটেছে।
এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দীন বলেন,
”সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে বা ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটার পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন বা এন্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপে কাটা কোনো রোগী এলেই আমরা পর্যবেক্ষণে রাখি এবং বিষাক্ত সাপের কামড়ের লক্ষণ দেখা দিলেই এন্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়।”
তিনি আরও জানান, সাপের এন্টিভেনমের পাশাপাশি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিনও মজুত রয়েছে। কোনো কুসংস্কার বা ভুল চিকিৎসায় কান না দিয়ে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে আসার জন্য তিনি পোরশাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
https://www.kaabait.com