June 14, 2026, 7:04 pm
মাইনুল ইসলাম বাকেরগঞ্জ বরিশালঃ
বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকার রেইনট্রি তলা নামক স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ‘শ্রাবণী’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী হেমায়েত রাজা (৪৫) নিহত হন। তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকার গুলবাগের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী, মোটরসাইকেল চালক এবং বাসের যাত্রীসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে, তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের এই অংশে দীর্ঘদিন ধরেই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।