• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭
শিরোনামঃ
মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু দনিয়া কলেজে শিক্ষক প্রতিনিধি থেকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে অভিনব নাটক! পোরশা সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে দুই বাংলাদেশি আটক সাপে কাটলে ওঝা নয়, হাসপাতালে আসার পরামর্শ পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি: বাবা-ছেলে নিখোঁজ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির ‘তাল বেলাল’ মান্দার ‘ভাইরাল বটগাছ’ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

গাজীপুরে এসআই জাবেদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

Reporter Name / ১১৭ Time View
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

এম আনোয়ার হোসেনঃ                                            পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ, স্লোগানটি যখন কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যপট বদলে যায় ভয়াবহভাবে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাবেদের বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক এক অভিযোগ যেন সেই নির্মম বাস্তবতাই ফুটিয়ে তুলেছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রাস্তা থেকেই আসামীকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল এখন গাজীপুরের শিমুলতলী এলাকা।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ (শুক্রবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে শিমুলতলী এলাকায় তনু মল্লিক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন এসআই জাবেদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করলে আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় সোপর্দ করার কথা। কিন্তু তনু মল্লিকের ক্ষেত্রে আইনের পথ চলল উল্টো পথে। থানায় নেওয়ার বদলে মাঝপথেই শুরু হয় রুদ্ধদ্বার দর কষাকষি। অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই রাতেই তাকে ছেড়ে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আটক হওয়া তনু মল্লিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, পুলিশ মূলত শামীম নামের এক পলাতক আসামীকে ধরতে ওই এলাকায় অভিযানে গিয়েছিল। তনুর মোবাইলে শামীমের নম্বর পাওয়ামাত্রই তাকে আটক করা হয়। তনু বলেন, ​পুলিশ আমার মোবাইল চেক করে শামীমের নম্বর পায়। এরপর আমাকে আটক করে। শেষমেশ সাবেক এক কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তনু মল্লিকের ভাই জনি মল্লিক জানান আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি বলেন, তিনি ঘটনার মাত্র একদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার সময় পুলিশ অতর্কিতে ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালায়। ওসির নির্দেশের ভয় দেখিয়ে তনুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও টাকার বিনিময়ে সব রফাদফা হয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, শিমুলতলী ও আশপাশে পুলিশের একাংশের এই ধরা-ছাড়ার বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। এসআই জাবেদের মতো অসাধু কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লালসার বলি হচ্ছে পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি। ​রক্ষা করার শপথ নিয়ে যারা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিমুলতলী এলাকাবাসী। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলছেন, শর্ষের ভেতর ভূত তাড়ানো না গেলে সাধারণ মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও হারিয়ে যাবে।

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জাবেদ দাবি করেন, তিনি পলাতক আসামি শামীমকে ধরতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তনু মল্লিকের বাড়ির সামনে শামীমের মোটরসাইকেল পাওয়ায় এবং তনুর মোবাইলে শামীমের সাথে কথা বলার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি এড়িয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com