June 15, 2026, 9:54 am

শিরোনাম :
রাজশাহীতে সন্ত্রাসীদের কবলে সাংবাদিক তন্ময় দেবনাথ রাজশাহীতে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কর্মশালা আলোচনা অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে গলায় দড়ি দিয়ে সিএনজি চালকের আত্মহত্যা সান্তাহারে বিদ্যুৎ এর তারে জড়িয়ে প্রান গেল কিশোরের সান্তাহারে রাকিকা আক্তার রাকার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন  শিবিরের ধর্ষণের বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বাকেরগঞ্জে কলেজছাত্র সজিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার নন্দীগ্রামে পিইপির মানবিক উদ্যোগে ৩১ হতদরিদ্র পরিবার পেল সহায়তা টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গোলা ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার

জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা!

এম আনোয়ার হোসেনঃ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একদল শিক্ষার্থীর হাতে লাঞ্ছিত ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। ফোকলোর বিভাগে তালা দেওয়ার ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাস করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টের সূত্র ধরে ফোকলোর বিভাগে তালা দেওয়ার ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যান দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার লুৎফা সরকার নিশু, দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার ত্রিশাল প্রতিনিধি জাকিয়া বেগমসহ কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তালা দেওয়ার কারণ এবং নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, পরিচয় দেওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে তাদের জেরা করতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের কে পাঠিয়েছে? আমরা না ডাকলে কেন এসেছেন? আমাদের নিজস্ব সাংবাদিক আছে, বাইরের সাংবাদিক কেন আসবে?” ​একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ‘মব’ তৈরির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “লিফট ও কেচিগেট বন্ধ করে দাও, এদের আটকে রাখো।” পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

​ঘটনার এখানেই শেষ নয়। সাংবাদিকদের চলে আসার কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রুপ ও আইডিতে ওই ভিডিও পোস্ট করে সাংবাদিকদের নিয়ে চরম উপহাস ও বিদ্রূপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে এমন আচরণের শিকার হওয়াকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার সবারই সম্মান করা উচিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ সত্যিই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।”

​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *