March 3, 2026, 10:44 pm
নাজিরপুর (পিরোজপুর )প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলাধীন ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বলতি চর এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত জমি এলাকাবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানাগেছে,উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে কবরস্থানের জমিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে একটি পুকুরও খনন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেখমাটিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন ও নিজস্ব জমিহীন অসহায় মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কারও মৃত্যু হলে দাফনের স্থান নিয়ে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হতো।
বিশেষ করে বলতি চর সংলগ্ন দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আবাসন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশেরই নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে ভোগান্তি নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এ প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসীর পক্ষে রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলী সরদার পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থানের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এলাকার পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য একটি বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে বলতি চর এলাকায় কবরস্থানের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে তা এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রাথমিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এলাকাবাসীরা জানান, এ উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষরা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আর কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বৃদ্ধা আশ্রমটি বাস্তবায়িত হলে এটি পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সম্মানজনক আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন,
ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ উপজেলা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। কবরস্থানের জন্য জমি নির্ধারণ ও প্রাথমিক উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ মানবিক উদ্যোগ এলাকায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অসহায় ও অবহেলিত মানুষরা বাস্তব ও স্থায়ী উপকার লাভ করবেন।