June 14, 2026, 11:01 am
মো: আনোয়ার হোসেনঃ
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে এক প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সিন্ডিকেট প্রধান কার্যালয়ের এক শ্রেণির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি। কর্মদিবসে কর্মস্থলে না গিয়েও পুরনো চেয়ারকে আঁকড়ে ধরে রাখার এই দুঃসাহস এখন বিটিসিএল ভবনের প্রধান আলোচনার বিষয়।
বিটিসিএল সূত্র জানায়, গত ২০ জানুয়ারি এক আদেশে বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বদলি করা হয়। কিন্তু কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও গুলশান (পশ্চিম) থেকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট টেলিফোন এক্সচেঞ্জে বদলি হওয়া ওয়ার্কচার্জড কর্মচারী মোঃ মোরশেদ আলম মুন্সি কাগজে-কলমে যোগদান দেখালেও বাস্তবে এখনো তার পুরনো ঢাকার কর্মস্থলের মায়া ছাড়তে পারেনি। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি এখনো ঢাকায় অবস্থান করে বদলি বাতিলের তদবির ও সরকারি জায়গায় ঘর কেনাবেচাসহ ভাড়া বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও সুনামগঞ্জে বদলি হওয়া মোঃ খায়রুল ইসলাম, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এবং মোঃ গিয়াস উদ্দিনের মতো প্রভাবশালী কর্মচারীরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দিলেও সেখানে তাদের দেখা মেলে না। তারা নিয়মিত কর্মস্থলে না গিয়েও দিব্যি ঢাকায় আয়েশি জীবন যাপন করছেন। সেই সাথে বিটিসিএল’র অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাস শেষে নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতা। এই ভুতুড়ে উপস্থিতির নেপথ্যে পর্দার আড়ালে বড় অংকের আর্থিক লেনদেন ও বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটটি নিয়মিত ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় বসে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দালালি চক্রের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিতের যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, বিটিসিএলের এই সিন্ডিকেট যেন তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ক্ষমতার দাপটে তারা শুধু আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিটিসিএলের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন,অদৃশ্য এই ক্ষমতার উৎস কোথায়? কেন তদন্ত করে এসব ‘অদৃশ্য’ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হাজিরা খাতায় নাম থাকলেও সশরীরে অনুপস্থিত থেকে বেতন তোলা কেবল চুরির শামিল নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর চরম আঘাত। বিটিসিএলের এই ভুতুড়ে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই বদলি বাণিজ্যের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার দাবি সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এই ‘অদৃশ্য’ কর্মচারীদের খুঁজে বের করার সৎ সাহস দেখাবে?
এবিষয়ে জানতে পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটির ডিজিএম শিশির কুমার চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খাইরুল ও গিয়াস ছুটিতে ঢাকায় আছেন। তবে দুরারোগ্য ব্যাধি ছাড়া একজন কর্মচারী কীভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়ে মাসের পর মাস ছুটি ভোগ করেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অপরদিকে বিটিসিএল’র দিনাজপুর অঞ্চলের ডিজিএম (টেলিকম) বেলায়েত হোসেনের কাছে যোগাযোগ করলে উনি জানান, কর্মচারী মোর্শেদ ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে। কিন্তু যোগদানের পর অফিসে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা রেজিস্ট্রার বা কাগজে মোর্শেদকে উপস্থিত দেখানোর কারণ কি? এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারে নি।