June 14, 2026, 12:14 am

শিরোনাম :
সান্তাহারে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাকার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু নন্দীগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি নন্দীগ্রামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করলেন এমপি মোশারফ বাকেরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের চাল বিতরণ বাকেরগঞ্জে গাঁজা গাছসহ একজন গ্রেপ্তার সাপাহার জবই বিলে বৃক্ষ রোপণ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান সাপাহারে আমের বিপনন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা সীমান্তে ভয়াবহ মাদকের বিস্তার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুব সমাজ ভাঙা ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন, পুনর্বাসনের আশায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমান

নওগাঁয় জ্বালানি সংকট: দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি, কালোবাজারে বাড়ছে তেলের দাম

মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁয়ও। জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাত থেকে দিন পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। এরই মধ্যে ফুয়েল কার্ড চালুর পর ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের পাশাপাশি জারিকেনে করে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে কালোবাজারে চড়া দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

অনেক চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। নওগাঁ জেলার যানবাহন চালকেরা একদিন পরপর ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পাচ্ছেন, ফলে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জেলার সদর উপজেলার পার-নওগাঁ থেকে আসা ফারুক হোসেন বলেন, “আমি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করি। সে কারণে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। সারাদিন কাজ শেষে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না।”

অপরদিকে, একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত হাসান জানান, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা কাজের জন্য বাইরে থাকি। গভীর রাতে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে এখন অন্য পাম্পে যাচ্ছি। এখনো বাসায় ফিরতে পারিনি।”

মহাদেবপুর উপজেলার কৃষক সুমন হোসেন সেচ মেশিনের জন্য তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আমি রাত ৩টায় মেশিন নিয়ে এসেছি। সঙ্গে আমার ১০ বছর বয়সী ছেলে। মশার কামড় খেয়ে বসে আছি তেলের অপেক্ষায়। সকালে তেল পেলে জমিতে সেচ দিতে হবে।”

এদিকে ট্রলি চালক মিজান বলেন, “সারাদিন ইটভাটায় কাজ করি। সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাইরে খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এক লিটার ডিজেল ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তেল নিয়ে বাসায় ফিরব।”

একদিকে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, অন্যদিকে তেলের আশায় এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেকটিতে ছোটাছুটি করছেন চালকেরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে তেল কিনছেন।

যানবাহন চালকদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *