• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬
শিরোনামঃ
অ্যাব এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের উপস্থিতিতে মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সান্তাহারে আশা আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ; ফ্যাক্টারী সিলগালা নীলফামারী আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা ধামইরহাটে সংঘাত নয়-শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুমকিতে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতার ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজগংয়ের হামলা পোরশায় কোয়ারেন্টাইনে মারা যাওয়া ছাগলের বদলে নতুন ছাগী পেল ৩২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু

নওগাঁয় জ্বালানি সংকট: দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি, কালোবাজারে বাড়ছে তেলের দাম

Reporter Name / ৮৬ Time View
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁয়ও। জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাত থেকে দিন পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। এরই মধ্যে ফুয়েল কার্ড চালুর পর ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের পাশাপাশি জারিকেনে করে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে কালোবাজারে চড়া দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

অনেক চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। নওগাঁ জেলার যানবাহন চালকেরা একদিন পরপর ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পাচ্ছেন, ফলে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জেলার সদর উপজেলার পার-নওগাঁ থেকে আসা ফারুক হোসেন বলেন, “আমি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করি। সে কারণে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। সারাদিন কাজ শেষে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না।”

অপরদিকে, একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত হাসান জানান, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা কাজের জন্য বাইরে থাকি। গভীর রাতে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে এখন অন্য পাম্পে যাচ্ছি। এখনো বাসায় ফিরতে পারিনি।”

মহাদেবপুর উপজেলার কৃষক সুমন হোসেন সেচ মেশিনের জন্য তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আমি রাত ৩টায় মেশিন নিয়ে এসেছি। সঙ্গে আমার ১০ বছর বয়সী ছেলে। মশার কামড় খেয়ে বসে আছি তেলের অপেক্ষায়। সকালে তেল পেলে জমিতে সেচ দিতে হবে।”

এদিকে ট্রলি চালক মিজান বলেন, “সারাদিন ইটভাটায় কাজ করি। সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাইরে খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এক লিটার ডিজেল ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তেল নিয়ে বাসায় ফিরব।”

একদিকে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, অন্যদিকে তেলের আশায় এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেকটিতে ছোটাছুটি করছেন চালকেরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে তেল কিনছেন।

যানবাহন চালকদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com