June 5, 2026, 12:57 pm
মাইনুল ইসলাম বরিশালঃ
বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
দেশজুড়ে চলমান জ্বালানিসংকট এখন সরাসরি আঘাত হানছে বিদ্যুৎ খাতে। আর তার সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকার পরও গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
আজকে বৃহস্পতিবার দিনের বেলা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুতের বিশাল এই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। যার কারণে রাজধানী ঢাকায় এখনো তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামগুলোতে এখন দিনে-রাতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাকেরগঞ্জে রাত-দিনে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং : তীব্র গরমের মধ্যে বাকেরগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, কোথাও আবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোমবাতি কিংবা চার্জলাইটের আলোতে পড়াশোনা করছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জহির হাসান বলেন, গত দুই দিন ধরে তীব্র গরমের পাশাপাশি ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।
লোডশেডিং আরো বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং জনজীবনে অসহনীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়িয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া বিল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এ বিষয়ে বরিশার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাকেরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: মাজহারুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে এবং আজ রাতে প্রায় ৮০ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশব্যাপী লোডশেডিং চলমান থাকলেও আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে যেকোনো সময় লোডশেডিংয়ের মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সমস্যার সমাধান ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।