June 15, 2026, 2:32 am
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকায় নুরানী ইসলামিয়া একাডেমি মাদ্রাসার নার্সারি ক্লাসের শিক্ষার্থী রাকিকা আক্তার রাকাকে নৃশংস ও বর্বরোচিত ভাবে খুন করার ঘটনায় খুনি আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগমসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কর্মচারিরা। নুরানী ইসলামীয়া একাডেমি মাদরাসা নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এদিন সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এক ঘন্টা ধরে শহরের রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনী রাস্তায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সান্তাহার নুরানী ইসলামিয়া একাডেমি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন। শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারিরা অবিলম্বে রাকার খুনিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ফাঁসির দাবী জানান।
উল্লেখ্য, ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় রাকা প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্ত আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম কোমলমতির শিশু কন্যা রাকাকে ধরে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায় এবং রাকার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নেয়ার পর কানা শুরু করে। ঘটনা জানাজানি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে রাকার গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করে। পরে লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে আমজাদ হোসেনের ঘরের খাটের নীচে লুকিয়ে রাখে। এরপর রাকা কান থেকে খুলে নেয়া দুই আনা ওজনের সোনার গয়না মাত্র ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে এবং রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। এদিকে, রাকার দাদি ও ফুফু অনেক খোজাখুজি করে তার সন্ধান না পেয়ে শহরে নিখোঁজ সংক্রান্ত মাইকিং শুরু করে। মাইকিং চলা অবস্থায় এলাকাবাসী সন্দেহবশত মাদকাসক্ত ও মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। রাত ১০ টার দিকে তল্লাশির এক পর্যায়ে আমজাদ হোসেনের বাড়ির খাটের নীচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাকামনির লাশ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাকার মরদেহ উদ্ধার ও আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগমকে তাৎক্ষণিক ভাবে গ্রেপ্তার করে। পরে এই নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার সাথে সহযোগী হিসাবে জড়িত থাকার দায়ে পরদিন শুক্রবার সকালে আমজাদ হোসেনের প্রতিবেশী বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামীদের বগুড়ার আদালতে পাঠানো হলে আসামীদের জবানবন্দি গ্রহন করা হয়। প্রদত্ত জবানবন্দিতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চার আসামীর মধ্যে আমজাদ হোসেনের স্ত্রী বন্যা বেগম খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।