June 13, 2026, 10:08 pm
কে কামরুল হাসান, সাতক্ষীরা প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরা সীমান্ত জুড়ে মাদকের ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলো ভাঙছে, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। পরিকল্পিতভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। জামায়াত চারটি সংসদীয় আসনে জয়লাভের পর মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীরা চরম বেপরোয়া। প্রশাসনও উদাসীন।
মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেয়া জাময়াত নির্বিকার। মাদকবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ নেননি চারজন এমপির। বরং নিজেরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরার সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অসন্তোষ বিদ্যমান। এবারের ঈদে বাড়ি গিয়ে সেই ভয়াবহতা টের পেয়েছি। প্রকাশ্য মাদক বেচাকেনা, সেবন হচ্ছ। দু,টি বাজারে রাতে অবস্থানের পর নিজেই হতবাক। কলারোয়া বাজারে স্বামীকে মাদক থেকে নির্মূলের জন্য স্ত্রী ধাওয়া করেছে, আর হেলাতলায় ইয়াবা সেবনের ঘটনায় রীতিমতো অবাক।গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে একই অবস্থা। সহজে লাভজনক বলে এখন গ্রামের ভদ্র লোকটিও নাকি মাদক ব্যবসায়ী।
সাতক্ষীরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন, কারণ তারা দেখছেন কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে। একজন মাদকাসক্ত যুবক শুধু নিজের জীবনই নষ্ট করে না; তার পরিবারকেও চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেয়। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চয় হারায়, পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায়, এবং সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। মাদকাসক্তি কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, শিক্ষাজীবন ধ্বংস করে এবং একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকট। যা এখন সামাজিক ব্যাধী আকারে ধারণ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পুলিশের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে। এই কাজে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিকরাও জড়িত। মাদক নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার পেছনে জামায়াত এমপিদের উদাসীনতা,
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধবংস করে দিচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। মাদক একটি সমাজকে নীরবে ধ্বংস করে। তাই এটি কোনো দল, মত বা ব্যক্তির একক সমস্যা নয়; এটি সমগ্র সমাজের সমস্যা। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো আফসোস করে বলে, জামায়াতকে ভোট দিয়ে ভুল করেছি। ওরা জামায়াত, ওরা জনগণকে নিয়ে ভাবে না, জামায়াতের নিজেদের বাইরে কোন চিন্তা করবার শক্তি নাই। সহজ-সরল মানুষগুলো ভুল বুঝিয়ে এবং ইসলামের দোহায় দিয়ে যারা মোনাফেকী করেছে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবে না। মানুষ ভুল বুঝতে শিখেছে, কিন্তু ভুলের উপলব্ধির আগেই আমাদের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেলো। একটি প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে ধবংস করে দেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরার মানুষ একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ দেখতে চায়। তথাকথিত ইসলামী দলের প্রতিশ্রুতি নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান রাজনৈতিকভাবে ও কার্যকর উদ্যোগ করা। কারণ একটি প্রজন্মকে বাঁচাতে না পারলে ভবিষ্যৎকে বাঁচানো যাবে না। এই জন্য দ্রুত মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে। মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর হস্তে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে হবে। তা না হলে তরুণ প্রজন্ম আঁধারে নিভে যাবে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ