• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক নন্দীগ্রামে খাস জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করায় অবরুদ্ধ ৪ পরিবার প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সাংবাদিক সুধী সমাবেশ সফল করতে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নাটোরের লালপুর থানার জুয়া বিরোধী অভিযান আটক ২ ধামইরহাটে বিভিন্ন মাদরাসায় ১৪ বিজিবি কর্তৃক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেল নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার গাজিউল হক সান্তাহারে খাজনা জালিয়াতির অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা; গ্রেপ্তার-১ বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেল নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার গাজিউল হক ফ্যাসিবাদের পতন হলেও বহাল তবিয়তে আজিজুল, সিরতা ইউনিয়নে অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নওগাঁর মান্দায় নিজ অর্থায়নে সমাজসেবক লুৎফরের রাস্তা সংস্কার

ফ্যাসিবাদের পতন হলেও বহাল তবিয়তে আজিজুল, সিরতা ইউনিয়নে অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Reporter Name / ১০ Time View
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

আতিকুল ইসলাম শাওন ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি ভাতা বিতরণে অনিয়ম, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এলাকায় তার প্রভাব ও আধিপত্য বহাল রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক। বিগত সরকারের সময়ে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সহকারী (এপিএস) আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও আজিজুল ইসলামের প্রভাব কমেনি। বরং ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এখনো তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, প্যানেল চেয়ারম্যান থাকাকালে টিআর, কাবিখা এবং রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো তদন্ত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম অন্যায়ের অবসান হবে। কিন্তু আজিজুল ইসলামের মতো দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। গরিব মানুষের প্রাপ্য সুবিধা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সিরতা ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি অনুদান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com