শফিক টুটুল, পিরোজপুরঃ
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বলেশ্বর নদীটি একশ্রেণির মানুষের অসচেতনতায় তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নদের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ‘গাছের ঝাপ’ (ঘের) তৈরি, নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী জাল’ এবং ‘বাঁধা জাল’ দিয়ে অবাধে মাছ ধরার কারণে নদের স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই যদি প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ এবং নদীমাতৃক পরিবেশের এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
এদিকে, নদের এই বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাছ ধরার পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও নানামুখী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাবুরহাট বাজারের বাসিন্দা মোঃ সাকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই চায়না দুয়ারী আর বাঁধা জালের কারণে নদের তলদেশে পলি জমে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। জালে মাছের ছোট পোনা থেকে শুরু করে কোনো জলজ প্রাণীই রেহাই পাচ্ছে না। তার ওপর আবার গাছের ডালপালা দিয়ে ঝাপ বসানো হয়েছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী সমাধান চাই।
উপজেলার বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা মুক্তা সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চায়না দুয়ারী আর চরপাটা জালের কারণে নদীতে এখন আর আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না। নদীর গতিপথ আটকে যেভাবে মাছ ধরা হচ্ছে, তাতে নদীটির নাব্যতা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। বর্ষায় কোনোমতে পানি থাকলেও শুকনা মৌসুমে নদীটি একটি মরা খালে পরিণত হয়। বলেশ্বর নদকে বাঁচাতে হলে এই অবৈধ জাল ও ঝাপ উচ্ছেদ করা এবং দ্রুত নদী খনন করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”বলেশ্বর নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ মৎস্য শিকার বন্ধে সরকারের মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের অতি দ্রুত কঠোর ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি করেন অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
https://www.kaabait.com