• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১
শিরোনামঃ
মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু দনিয়া কলেজে শিক্ষক প্রতিনিধি থেকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে অভিনব নাটক! পোরশা সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে দুই বাংলাদেশি আটক সাপে কাটলে ওঝা নয়, হাসপাতালে আসার পরামর্শ পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি: বাবা-ছেলে নিখোঁজ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির ‘তাল বেলাল’ মান্দার ‘ভাইরাল বটগাছ’ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

দনিয়া কলেজে শিক্ষক প্রতিনিধি থেকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে অভিনব নাটক!

Reporter Name / ৪ Time View
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

এম. আনোয়ার হোসেন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পষ্ট নিয়মনীতি ও প্রবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী দনিয়া কলেজে বিধিবহির্ভূতভাবে উপাধ্যক্ষ পদ সৃজন ও নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ খোকন-এই দু’জন শিক্ষককে কেন্দ্র করে পরিচালিত এমন পদায়নকে শিক্ষাবিধি লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ধারা ৩ (ক) অনুযায়ী, কোন কলেজে একাধিক শিফট থাকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রতি শিফটের জন্য একজন করিয়া উপাধ্যক্ষ নিয়োগ করা যাইবে। যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক নিয়োগ সম্পন্ন করিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করিতে হইবে। এছাড়া রেগুলেশনের ৮ ধারায় খণ্ডকালীন শিক্ষক অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিযুক্ত হইতে পারিবেন না এবং একজন পূর্ণকালীন শিক্ষক খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে একাধিক কলেজে শিক্ষকতা করিতে পারিবেন না।

একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক কিংবা অধ্যাপক হওয়ার পথটি পদোন্নতিমূলক হলেও, অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদটি কোনো পদোন্নতির পদ নয়। এটি উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সঠিক বাছাই প্রক্রিয়া ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দনিয়া কলেজের গভর্নিং বডিতে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ অনুমোদিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো উপাধ্যক্ষ পদ পূরণ করা হয়নি। গভর্নিং বডির ভেতরের প্রভাব ও সুযোগ ব্যবহার করে শিক্ষক প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ খোকন নিজেদের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়িত ও পরিচয় প্রদান করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ও অনিয়মের কারণে আবুল কালাম আজাদ খোকন যেখানে বিধি অনুযায়ী কলেজের অধ্যক্ষ পদেরই যোগ্য নন, সেখানে তাকে ক্ষমতার জোরে উপাধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছে। বর্তমানে দনিয়া কলেজে শিফট ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং পৃথক শিফট ইনচার্জও নিয়োজিত আছেন। আবুল কালাম আজাদ খোকন নিজেই অনার্স শাখার শিফট ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এজন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৯ হাজার টাকা ভাতা গ্রহণ করছেন। একদিকে শিফট ইনচার্জের ভাতা গ্রহণ, অন্যদিকে বেআইনিভাবে উপাধ্যক্ষ পদ ব্যবহার, বিষয়টিকে চরম আর্থিক অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাত বলে মনে করছেন কলেজের সচেতন মহল।সাধারণত বেসরকারি ডিগ্রি কলেজগুলোতে প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কেবল একজন অধ্যক্ষ দিয়েই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু দনিয়া কলেজে নিয়ম-নীতি না মেনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই নিজেদের মনগড়া সিদ্ধান্তে উপাধ্যক্ষ পদ সৃজন ও ব্যবহার করে বাড়তি অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দনিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশন ২০১৯-কে সম্পূর্ণ অমান্য করেছেন। প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়া কাউকে উপাধ্যক্ষ বানানো বা ভারপ্রাপ্ত/খণ্ডকালীন উপাধ্যক্ষ পদ সৃজন করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পরিদর্শন দলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। তারা অবৈধভাবে সৃজিত উপাধ্যক্ষ পদ অবিলম্বে বাতিল এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এবিষয়ে দনিয়া কলেজের চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমির হোসেন জানান, দুইজনকে অভ্যন্তরীণভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য শিফট ইনচার্জের মতো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবগত করব। আবুল কালাম আজাদ শিফট ইনচার্জ হিসেবে ৯ হাজার টাকা ভাতা পাবে না। এই একাডেমির কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতেই এই নিয়োগ বা পদায়ন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com