মাইনুল ইসলাম বাকেরগঞ্জঃ বাকেরগঞ্জ উপজেলা ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে মাটি কাটার ফলে উপজেলার আয়তন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাকেরগঞ্জের মানচিত্র থেকেই কলস কাঠি নলুয়া ফরিদপুর বাকেরগঞ্জের বড় একটি অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকা, বিশেষ করে, নলুয়া ইউনিয়নে প্রতি বছরই তীব্র নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। ভাঙনের ফলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীর থেকে অবাধে মাটি কাটার কারণে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। প্রভাবশালীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়ে আশপাশের এলাকা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
কৃষকদের দাবি, প্রতিবছর জমি হারানোর কারণে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বাড়িঘর হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং চরাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
https://www.kaabait.com