June 16, 2026, 12:12 pm

শিরোনাম :
এঞ্জেল কেয়ার একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুল আমিনকে অপহরণের চেষ্টা, এলাকায় চরম উত্তেজনা উখিয়ায় ইয়াবা সম্রাটের আস্তানায় বিজিবির অভিযান: ৫০ হাজার ইয়াবা, বিদেশি পিস্তল ও অস্ত্র উদ্ধার টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান প্রচারের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ টিঅ্যান্ডটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লাইসেন্স বিহীন দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্টের ২৫হাজার টাকা জরিমানা হৃদয়ের টানে, স্মৃতির মোহনায়—আমরা আবার এক সাথে -ব্যাচ ৯৯। সান্তাহারে শিশু রাকার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন নওগাঁয় বেলা’র একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব ও পরিবেশগত সমস্যা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতা মুলক প্রচারণা পোরশায় পটল পাতার বড়া বেচেই জীবিকা চলে শফিকুলের পোরশায় পটল পাতার বড়া বেচেই জীবিকা চলে শফিকুলের

এসি মেকানিক থেকে কোটিপতি: ভুট্টু-বাঁধনের নিয়োগ সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিউজ নওগাঁয় ভাইরাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা মোবারক আলীর ছেলে মনোয়ার হোসেন ভুট্টু (এসি ভুট্টু) কয়েক বছর আগেও ছিলেন এক সাধারণ এসি মেকানিক এর নেট দুনিয়াই ভাইরাল। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক, এমন অভিযোগে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আদালত কর্মচারী মামুনুর রশিদ বাঁধনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় সিঙ্গার কোম্পানির এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন ভুট্টু। পাশাপাশি কিস্তিতে বিক্রিত পণ্যের টাকা আদায়ের কাজও করতেন তিনি। সে সময় তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ নিম্নমানের। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে মনোয়ার হোসেন ভুট্টু প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমির মালিক এবং কোটি টাকার সম্পদের অধিকারী। তার এই আকস্মিক সম্পদ বৃদ্ধির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নওগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিচারক শহিদুল ইসলামের সময়ে আদালতের কর্মচারী মামুনুর রশিদ বাঁধনের সঙ্গে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে সময় বাঁধন বিচারকের বাসার একান্ত সহকারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে আদালত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন ভুট্টু।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে মনোয়ার হোসেন ভুট্টু ও মামুনুর রশিদ বাঁধন মিলে একটি নিয়োগ বাণিজ্য চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্তত ১১ জনকে আদালতের বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো এই নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় ভুট্টুর আপন ভাই ও ভাবিও রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা নওগাঁ আদালতের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জুডিশিয়াল সার্ভিসের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় মামুনুর রশিদ বাঁধনের কারাদণ্ডের পর পুরো বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনার সঙ্গে অতীতের নিয়োগ বাণিজ্যের যোগসূত্র থাকতে পারে।

আদালতপাড়ার একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভুট্টু ও বাঁধনের একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। আদালতের বিভিন্ন কাজে তাদের অদৃশ্য প্রভাব দেখা যায়।” তাদের অভিযোগ, নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি টেন্ডার ছাড়া আদালতের সরকারি আসবাবপত্র অপসারণসহ বিভিন্ন উপায়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। আদালতের সরকারি আসবাবপত্র মা-টিম্মার ফার্নিচারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ফার্নিচার তৈরি করে নিজ বাড়িতেই ব্যবহার করছেন।

বর্তমানে মনোয়ার হোসেন ভুট্টুর জীবনযাত্রায়ও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত বিমান ব্যবহার করেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন যা তার পূর্বের পেশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন ভুট্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সাংবাদিক সাহেব, আপনি ভুল জায়গায় ফোন দিয়েছেন। আমি এখন ঢাকায় দুদকের একটি কাজে ব্যস্ত আছি। যেসব অভিযোগ বলা হচ্ছে, সবই মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে, এলাকাবাসী বলছেন একজন সাধারণ এসি মেকানিক থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাম্প্রতিক জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে একটি বৃহৎ চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এঘটনায় নেট দুনিয়াই ঝড় উঠেছে এসি মেকানিক থেকে কোটিপতি: ভুট্টু-বাঁধনের নিয়োগ সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে। হয়তো দুদুক যে কোন দিন এসি মেকানিক এর সম্পদের হিসাব চেয়ে বসবে বলে মনে করছে এলাকা বাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *