March 3, 2026, 9:40 am

শিরোনাম :
পুঠিয়ায় ৩ সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধামইরহাটে ব্র্যাকের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে আকবর এগ্রো অটো রাইস মিল ও বীজ হিমাগারে আলু সংগ্রহের উদ্বোধন অনুমোদনহীন ঈদ মেলার আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন মার্কেট দখল ও অপরাধের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’-সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক পৃথক অভিযানে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ পোরশায় নিতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে লাচ্ছা-সেমাই কারখানায় মোবাইল কোর্টে’র অভিযান, ২০হাজার টাকা জরিমানা রাজপথের লড়াকু সৈনিক নুরুজ্জামান খান মানিক: তৃণমূলের আস্থার বাতিঘর! রাসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় সাবেক মেয়র বুলবুল

রাসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় সাবেক মেয়র বুলবুল

তন্ময় দেবনাথ রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন-এর সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল-কে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর একটি অংশ। তাঁদের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলে চলমান ও অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো নতুন গতি পাবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। সে সময় তিনি যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনে তিনি প্রার্থী হন। তবে সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল প্রতিকূল; প্রথম সারির অনেক নেতা মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি ছিলেন। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি বিজয়ী হতে না পারলেও আন্দোলন-সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের মধ্যেও নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ অটুট রাখেন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন তিনি। ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে মেয়রের দায়িত্ব নেন বুলবুল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধুনিক রাজশাহীর রূপকার হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু-এর সময়ে শুরু হওয়া অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁর মেয়াদকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। অনেক নাগরিকের মতে, সে সময়ে নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।

তবে তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি পূর্ণ মেয়াদকাল দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২ মার্চ তাঁর বাসভবনে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের আহত ও আটক করার ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজশাহী রাজশাহী নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজপাড়া থানা যুবদলের আহবায়ক আতাউর রহমান বাঁধন বলেন, “বুলবুল ভাই পরীক্ষিত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমরা তাঁকেই চাই।”

একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মহানগর যুবদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ কাউসার রহমান সাগর । তাঁর ভাষ্য, “তিনি যোগ্য ও অভিজ্ঞ। তাঁর ওপর আমাদের আস্থা আছে। দায়িত্ব পেলে রাজশাহীর উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।”প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ,

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, “আমি জনগণের রাজনীতি করি, আমি জনগণের সেবক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি মনে করেন আমি যোগ্য, তাহলে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা পালন করতে প্রস্তুত আছি।”

রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজশাহীর উন্নয়নে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নগরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থানই নির্ধারণ করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। নগরবাসী এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *