March 3, 2026, 7:47 pm
মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
টানটান উত্তেজনার মধ্যে ঝিনাইদহ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বিপক্ষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সোমবার (২৯ডিসেম্বর), দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এটর্নি জেনারেল অ্যাড. মোঃ আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. এম.এ. মজিদ ও ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি সহ, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপি’র দলীয় প্রোটোকলে রাশেদ খান কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সম্প্রতি, নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে ঝিনাইদহে স্থগিত তিনটি আসনে বিএনপি তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এক্ষেত্রে, শরীক দলের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনে লাগাতার গণসংযোগ করছিলেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। একই আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. এম. এ. মজিদ। বিএনপি দলীয় কৌশল অবলম্বন করে ঝিনাইদহ-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অ্যাড. এম. এ. মজিদ কে চূড়ান্তভাবে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রদান করে।
অপরদিকে, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান কে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দেয়ায় সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে একটানা গণসংযোগ করে আসছিলেন সাবেক ছাত্র নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ।
রাশেদ খান কে মনোনয়ন দেয়ায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি’র তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তারা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে লাগাতার বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। কাফন মিছিল, মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ র্যালীর মাধ্যমে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বাঁচাতে লড়ছেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে, তারা যেকোনো মূল্যে রাশেদ খান কে প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন। এ-সময় কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন,
“সাইফুল ইসলাম ফিরোজ রাজপথ থেকে উঠে এসেছেন। বিএনপির জন্য তার অসীম ত্যাগ। বিগত স্বৈরশাসকের আমল থেকে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে বুকে আগলে রেখেছেন। একজন বহিরাগত’র জন্য দল তাকে বলি দিতে পারে না। আমরা এমন অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিব না। এটি দলের জন্য হিতে বিপরীত হবে।”
অপরদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে রাশেদ খান বিএনপি তে যোগ দেয়ায়, তাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে দলটি।
এদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বাঁচাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা ও নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
একইসাথে, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম বেল্টুর স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন পপিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।