March 3, 2026, 6:09 pm
নজরুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
হাটবাজারে কাঁচা সবজির দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রাম বাংলার কৃষকরা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সবজি কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, কদু, বেগুনসহ পালং শাক বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজি বাজারে প্রায় বিক্রয় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হাটবাজারে ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম, ফলে অনেক কৃষক উৎপাদিত সবজি ক্ষেত থেকেই তুলছেন না। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে পানির দামে সবজি বিক্রি করছেন।
একজন কৃষক জানান, “সার, বীজ, ওষুধ আর কীটনাশকের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু সবজি বিক্রি করে সেই খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
আরেক কৃষক বলেন, “শীতের কারণে মানুষ কম বের হচ্ছে, হাটেও ভিড় নেই। উৎপাদন বেশি হলেও বিক্রি নেই। এতে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছি।”
কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নতমানের সার না থাকায় ফসল আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমানোর জন্য চাষের পরিমাণও কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে জমির অনেক অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ অবস্থায় কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত সার, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম কমায় এবং সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি হাটবাজারে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ন্যায্যমূল্যের অভাবে কৃষকরা কৃষিকাজে আগ্রহ হারালে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।