June 13, 2026, 9:05 pm
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের দলিল গ্রামে এক বৃদ্ধার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই বাড়িটি ফাঁকা থাকায় এর আগেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সংঘবদ্ধ ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল বাড়ির বাউন্ডারির তারকাঁটার বেড়া এবং জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। ভুক্তভোগী আহসানুল হক লিটন জানায়,আমি কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় আমার বৃদ্ধা মা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছেন। রাতে ডাকাত দল ঘরের ভেতরে ঢুকে বাড়িঘর তছনছ করে তেমন কিছু না পেয়ে বৃদ্ধার কানের গহনা খুলে নেয় এবং বাড়ির ভেতরে থাকা কিছু নতুন কাপড়-চোপড় লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর বৃদ্ধা মহিলা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তারা দেখতে পান, বাড়ির চারপাশের নিরাপদ তারকাঁটার বেষ্টনী কেটে ফেলা হয়েছে এবং জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধার জামাতা রাজু আহম্মেদ বলেন, এই বাড়িতে আগেও কয়েকবার ডাকাতি হয়েছে। এবারও প্রায় ৬০ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে । কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে এলাকায় নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইব্রাহীম আলী বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বগুড়ার শেরপুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৮, থানায় অভিযোগ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিরইল দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কাওসার সরকার (২২), সুলতান সরকার (৪২), আলতাব সরকার (৬৫) ও শামীম সরকার (৩১)। অন্যপক্ষের সোবাহান (৪৫), সোলাইমন (৪০), মামুন সরকার (২৫) ও ফুয়ারা বেগম (৩৫)। আহতরা সকলেই বিরইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আলতাফ সরকার ওই গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান। এ সময় পুকুরের দাবিদার সোবাহান বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কাওসার সরকার দাবি করেন, আমাদের লিজ নেওয়া জমি ও পুকুরে মাছ ধরতে গেলে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের চারজন গুরুতর আহত হয়েছে।
অন্যদিকে সোবাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ৫২ বছর ধরে আমরা আমাদের দলিলকৃত সম্পত্তি ভোগদখল করছি। কিছুদিন আগে তারা একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে মালিকানা দাবি করলে আমরা আদালতের আশ্রয় নেই। মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক মাছ আত্মসাৎ করতে আসে। আমরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।