June 4, 2026, 4:13 pm

শিরোনাম :
জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে “নবজাগরণ পাঠাগার” এর আত্মপ্রকাশ নীলফামারীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বজ্রপাতে দুই গাভীর মৃত্যু, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুছার রহমান চির নিদ্রায় সায়িত হলেন এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের সহধর্মিনী কোহিনুর বেগম । সাপাহারে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত পশু চামড়ার স্তুপ দুর্গন্ধে জনজীবণ অতিষ্ঠ সাপাহার আম বাজারে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান সাপাহারে জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় পোরশায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ইন্তেকাল নওগাঁয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের দাবি

আজ ১৪ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুর হানাদার মুক্ত হয়।

শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি :
আজ ঐতিহাসিক ১৪ ডিসেম্বর, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অকুতোভয় লড়াই ও ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এই জনপদ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেরপুরের আকাশে ওড়ে বিজয়ের নিশান।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল একযোগে শেরপুর শহরে প্রবেশ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে সারিয়াকান্দি থেকে সড়কপথে দুটি দল এবং মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন খানের নেতৃত্বে ধুনট থেকে আসা আরেকটি দল শহরের তিন দিক থেকে পাক হানাদার ও তাদের দোসরদের ওপর ঝটিকা আক্রমণ চালায়।
শহরের প্রবেশমুখে ঘোলাগাড়ী এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সেই এলাকা দখল করে নেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে কুখ্যাত রাজাকার আলী আকবর, বুলু আক্তার ও দিল মাহমুদ নিহত হন।
মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী পিছু হটে এবং অনেকে আত্মসমর্পণ করে। এভাবেই ১৪ ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হয় শেরপুর।
পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালে ঐতিহাসিক পার্ক মাঠে (বর্তমান টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজ চত্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আমান উল্লাহ খান।
এর আগে ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম শেরপুরে প্রবেশ করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৫ এপ্রিল বাগড়া কলোনির বধ্যভূমিতে ২৫-২৬ জন এবং ২৬ এপ্রিল ঘোগা ব্রিজ এলাকায় তিন শতাধিক নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া মে মাসে কল্যাণী গ্রামেও শতাধিক মানুষকে হত্যা করে হানাদাররা।
পৈশাচিক এসব হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শেরপুর ডিগ্রি কলেজ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। ন্যাপ নেতা সিদ্দিক হোসেন বারীকে কমান্ডার এবং থানার হাবিলদার আব্দুল হালিম ও দারোগা ওয়াজেদ মিয়ার তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়, যা চূড়ান্ত বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। শহীদদের স্মরণে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *