নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর উপজেলার কৃত্তিপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে পুকুরের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন শাহিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বর্ষাইল (জামাতপাড়া) গ্রামের আব্দুল খালেক ও দেলোয়ার হোসেন শাহিনের পরিবারের।
গত ৬ জুন দেলোয়ার হোসেন শাহিন পুকুর পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০টি আম গাছের চারা রোপণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন বিকেলে আব্দুল খালেকের স্ত্রী মোছা: বিলকিস বানু চুমকি ও তার ননদ মোছা: শিরিন বেগম দেশীয় দা নিয়ে গিয়ে গাছগুলো কেটে উপড়ে ফেলেন। এ সময় শাহিন তাদের সঙ্গে কোনো তর্কে না জড়িয়ে সেখান থেকে চলে যান।
পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন শাহিন বলেন, আমি প্রকাশ্যে পুকুর পাড়ে গাছ লাগিয়েছি। এলাকাবাসীর সামনেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে যেসব মারধরের কথা বলা হয়েছে, তার কিছুই ঘটেনি। তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক।
তিনি আরও বলেন, এজাহারে বলা হয়েছে আমি ও আমার সহযোগীরা বিলকিস বানু চুমকিকে মারধর করেছি, মাথায় কোপ দিয়েছি-যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনাস্থলের আশেপাশে অনেক বাড়িঘর রয়েছে, প্রতিদিন সেখানে মানুষজন থাকে। এমন কিছু ঘটলে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ দেখত।
এদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা আক্তার ও মালেকা বেগম জানান, “সেদিন বিকেলে আমরা পুকুর পাড়ে ছিলাম। শাহিন গাছ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন বিলকিস বানু চুমকি ও তার ননদ এসে গাছগুলো কেটে ফেলে। শাহিন শুধু বলেছিল গাছ না কেটে তুলে ফেলতে, এরপর সে চলে যায়। কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।”
অন্যদিকে, মামলার বাদী আব্দুল খালেক বলেন, পুকুর নিয়ে আগেই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনেছি আমার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে, মাথায় তিনটি আঘাত করা হয়েছে। তাই আমি থানায় মামলা করেছি।
মোছা: বিলকিস বানু চুমকি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পুকুর পাড়ে জোর করে গাছ লাগানো হলে আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে ধারালো ছোট কিছু দিয়ে মাথায় ১টি আঘাত করে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তি বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিজেরাই মাথা কেটে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করা ঠিক নয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
https://www.kaabait.com