• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯
শিরোনামঃ
সংগ্রামকে জয় করে স্বপ্ন পূরণ: জান্নাতুল ফেরদৌসের অনুপ্রেরণার গল্প নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে বাদী কারাগারে নেওয়াশী ইসলামিয়া মাদ্রাসায় নবনিযুক্ত সভাপতি ডা. ইউনুস আলীকে সংবর্ধনা ও আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় মাহফিল তিন বছরের পানির কষ্ট লাঘব, প্রধানমন্ত্রীর উপহারে হাসি ফিরল রকিব-শারমিনের পরিবারে আদমদীঘির বিনাহালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের দেখেই ক্ষেপে গেলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুমী আক্তার সাপাহার আদাতলা সীমান্তে ৯ জনকে পুশ-ইন চেষ্টা বিজিবির বাধা সাতক্ষীরায় রাফাত হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পোরশায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত কক্স বিজনেস গ্রুপ (সিবিজি) বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সংগ্রামকে জয় করে স্বপ্ন পূরণ: জান্নাতুল ফেরদৌসের অনুপ্রেরণার গল্প

এস কে জাফর আলম টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ / ৭১ Time View
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

এস কে জাফর আলম টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

জীবনের পথে সবাই সমান সুযোগ নিয়ে জন্মায় না। কেউ জন্ম থেকেই পায় স্বচ্ছলতা, আবার কেউ প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই করে নিজের অবস্থান তৈরি করে। তেমনই এক সংগ্রামী নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস।

১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাট মোরা পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মরহুম রশিদ আহমদ এবং মাতা সামশুন নাহার। শৈশবেই বাবাকে হারিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। যে বয়সে একজন শিশুর বাবার স্নেহ-ভালোবাসা ও ছায়ার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেই বয়সেই তাঁকে বুঝতে হয়েছে জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস । কিন্তু অভাব কখনো তাঁর স্বপ্নকে গ্রাস করতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন—শিক্ষাই পারে মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে। সেই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে শুরু করেন তাঁর শিক্ষা যাত্রা।

হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমিতে তাঁর শিক্ষা জীবনের সূচনা। সেখান থেকেই তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন কক্সবাজার সিটি কলেজে। একে একে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচ, এস, সি, ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। কিন্তু এই পথ চলা মোটেও সহজ ছিল না।

অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় বই কেনা, ফরম পূরণ কিংবা শিক্ষার অন্যান্য খরচ জোগাড় করাও হয়ে উঠত কঠিন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ বছর বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করেছেন। দিনের পর দিন, চাকরির দায়িত্ব পালন করে। আবার পড়াশোনার টেবিলে ফিরেছেন। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়েই বহন করেছেন শিক্ষার ব্যয়, সংসারের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত খরচ।

অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে, অনেক কষ্ট নীরবে সহ্য করেছেন, অনেক স্বপ্নকে সাময়িকভাবে বিসর্জন দিয়েছেন শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে—শিক্ষিত হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য। তাঁর এই পথচলা ছিল আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, ত্যাগ ও পরিশ্রমের এক অসাধারণ উদাহরণ।

আজ জান্নাতুল ফেরদৌস মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি শিক্ষাগত অর্জন নয়; এটি একজন পিতৃহীন, সংগ্রামী ও আত্মনির্ভর নারীর জীবনের বিজয় গাঁথা। তাঁর প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে অগণিত কষ্ট, ত্যাগ, চোখের জল এবং অদম্য সাহস।

জান্নাতুল ফেরদৌসের জীবন আমাদের শেখায়—জীবনে বাধা আসবেই, প্রতিকূলতা থাকবেই; কিন্তু লক্ষ্য যদি অটুট থাকে, পরিশ্রম যদি অব্যাহত থাকে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে, তাহলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না।

সংগ্রামকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলা এই নারীর জীবন গাঁথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। তাঁর গল্প বলে দেয়—অভাব মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তার মনোবল পাহাড়সম দৃঢ় হয়।”বাবাহীন শৈশব, অভাবের সংসার, চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা—সব বাধা পেরিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করা জান্নাতুল ফেরদৌস আজ সংগ্রাম ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।”


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com