March 3, 2026, 12:50 pm

শিরোনাম :
বিটিসিএলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস ছাড়তে লাগবে ঊর্ধ্বতনদের বিশেষ অনুমতি পুঠিয়ায় ৩ সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধামইরহাটে ব্র্যাকের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে আকবর এগ্রো অটো রাইস মিল ও বীজ হিমাগারে আলু সংগ্রহের উদ্বোধন অনুমোদনহীন ঈদ মেলার আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন মার্কেট দখল ও অপরাধের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’-সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক পৃথক অভিযানে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ পোরশায় নিতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে লাচ্ছা-সেমাই কারখানায় মোবাইল কোর্টে’র অভিযান, ২০হাজার টাকা জরিমানা রাজপথের লড়াকু সৈনিক নুরুজ্জামান খান মানিক: তৃণমূলের আস্থার বাতিঘর!

বাকেরগঞ্জে সমবায়ের নামে ‘সুদ কারবার’ সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

মাইনুল ইসলাম বরিশাল

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির আড়ালে চলছে ভয়াবহ সুদের কারবার। তথাকথিত এসব মাল্টিপারপাস সমিতির ‘গলাকাটা’ সুদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সচ্ছলতার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আসল ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর পথে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সমবায় অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব অবৈধ সমিতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ এসব সমিতির দ্বারস্থ হলে তাদের ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্বাক্ষর করা খালি ব্যাংক চেক ও সাদা স্ট্যাম্প জমা দিতে হয়।

পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই ওই চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে গ্রাহককে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্থাবর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সমিতিরই কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠান মাসে হাজারে ১০০ টাকা (শতকরা ১০ টাকা হারে) পর্যন্ত সুদ আদায় করছে।

লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেজিস্টার ব্যবহার না করে ছোট ছোট ‘টালি খাতায়’ সাঙ্কেতিক ভাষায় সুদের হিসাব রাখা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে চরম আর্থিক ও মানসিক যন্ত্রণায় দিনাতিপাত করছেন।

উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব সমিতির পাস বইয়ে ‘মানবসেবা’ ও ‘উন্নয়নের’ স্লোগান লেখা থাকলেও নেপথ্যে রয়েছে কেবলই সুদের ব্যবসা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ সমিতিরই সমবায় অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। নিবন্ধন থাকলেও তারা সমবায় আইন তোয়াক্কা না করে ব্যাংকিং স্টাইলে চড়া সুদে লেনদেন করছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যে হারে সুদ নেওয়ার কথা সেটা নেওয়া হচ্ছে না নেই কোন অফিস নিজের বাসা বাড়িতে বসেই চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা বছর শেষ না হতে হতেই উপজেলার সমবয় অফিসার কে ম্যানেজ করে আবার নিয়ে এসে লাইসেন্স আবার শুরু করা হয় সুদের ব্যবসা

উপজেলা সমবায় অফিস ও প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এই অশুভ চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এই অবৈধ সুদি ব্যবসা বন্ধ না হলে গ্রামীণ জনপদে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “অভাবের সময় টাকা নিয়ে এখন আমরা চোখে সর্ষে ফুল দেখছি। সুদের টাকা দিতে গিয়ে খাওয়ার টাকাও থাকছে না। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *