January 15, 2026, 11:38 pm

শিরোনাম :
নওগাঁর পত্নীতলায় ১৬ মাসের শিশুকে সেতু থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলে থানায় গেলেন মা নন্দীগ্রামে ভটভটি–মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু ধামইরহাটে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি’র যৌথ ত্রমাসিক সভা অনুষ্ঠিত। নন্দীগ্রামে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা নন্দীগ্রাম ইউএনও অফিস পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেন জেলা প্রশাসক পোরশায় দুস্থ প্রতিবন্ধদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ সান্তাহারে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নওগাঁয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন বাঘায় বেগম খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাচ্চু সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া। বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দুমকী প্রেসক্লাবের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

নওগাঁয় বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশনের গ্রাহকদের ৬‘শ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার মূলহোতা নাজিম উদ্দিন তনু গ্রেফতার

ডেক্স রিপোর্ট: অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে  বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশনের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৬‘শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি বৃহৎ প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. নাজিম উদ্দিন তনু (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার জগৎসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ নামের কথিত এনজিওর পরিচালক হিসেবে পরিচিত।

সিআইডির এলআইসি ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তনুর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদরের অফিসপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ (রেজি. নং রাজ–৩৭০)-এ শত শত গ্রাহক সঞ্চয় জমা, মাসিক ডিপিএস এবং এককালীন ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে নিবন্ধন করেছিলেন। অনেকে এককালীন আমানত হিসেবেও জমা দেন লাখ লাখ টাকা।

গ্রাহকদের লভ্যাংশের প্রলোভন হিসেবে বলা হতো, প্রতি ১ লাখ টাকার বিপরীতে মাসে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ। বাদীর নিজস্ব আমানত ছিল ২০ লাখ টাকা। দাবি করা হয়, প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আমানত ছিল বিভিন্ন গ্রাহকের।

তদন্তে উঠে এসেছে, শুরুতে পরিচালনা পরিষদ নিজেদের মনোনীত কিছু গ্রাহককে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থা তৈরি করে। সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই প্রতারক চক্রটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পর প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনে অস্বচ্ছতা দেখা দেয়। গ্রাহকরা আমানতের হিসাব পাচ্ছিলেন না, উত্তোলনেও নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছিল।

অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও পরিচালক নাজিম উদ্দিন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে গ্রাহকরা নওগাঁ অফিসে অর্থ ফেরতের দাবি জানাতে গেলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তাদের কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পরে গ্রাহকদের জোর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর এক ভুক্তভোগী ১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে নওগাঁ সদর থানায় মামলা (নং–২০) দায়ের করেন। এতে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত ৮০০-র বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে পাঁচ শতাধিক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার তথ্য সিআইডি পেয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির নওগাঁ জেলা ইউনিট। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এখন পর্যন্ত নাজিম উদ্দিন তনুসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্তকরণ, অবৈধ অর্থপ্রবাহ উদঘাটন এবং আদায় হওয়া অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী জানান বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন নওগাঁর পরিচালক নাজিম উদ্দিন তনুর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ৬‘শ কোটি টাকা আত্মসাতের কয়েকটি মামলা চলমান তার বিরুদ্ধে থানায় গ্রেপ্তারী পরয়ানা আছে।  এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চেকের মামলা সহ সিইডিতে মামলা চলমান এই মামলায় তাকে ঢাকা হতে সিআইডির একটি গয়েন্দা টিম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে আটক করে।

বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশনের গ্রাহকদের মধ্যে একটি মামলার বাদী সুলতানপুর গ্রামের তানজিলা আক্তারমুক্তা ৪কোটি ৭২ লক্ষ্য ৮ হাজার ৮শ দুই টাকা  দাবি করে ৪০/৫০ জন গ্রহকের পক্ষে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করে। মামলায় চার্জসিট প্রদান করা হয়েছে। মামলায় বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন নওগাঁর পরিচালক নাজিম উদ্দিন তনু ও মামুনুর রশিদ মামুন সহ ১৩ জনের নামে মামলা করলে থানা পুলিশ মামুনুর রশিদ মামুন আটক করলেও পালাতক ছিলেন নাজিম উদ্দিন তনু ।

অপর এক মামলার বাদী মাহিমা বানু লাকি নিজের ২০ লক্ষ্য টাকা সহ প্রায় দেড় থেকে দুইশ গ্রহকের দুই তিন শ কোটি টাকা দাবি করে  নওগাঁ সদর থানায় মামলা করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *