
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে নওগাঁয় পরিচালিত হলো ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। শতাধিক পুলিশ সদস্য রাতভর নওগাঁর পোরশা, নিয়ামতপুর ও সদর এলাকায় অভিযানে অংশ নেন। চোর-ডাকাত, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি, সড়কপথে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়। এসময় অভিযানে পোরশা থানায় ১০ জন, নিয়ামতপুর থানায় ১৪ জন এবং নওগাঁ সদর থানা এলাকায় ২ জনসহ মোট ২৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ৮ জন চিহ্নিত ডাকাত ও কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘পোরশা এলাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব মামলার আসামি ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আমরা বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। তারই প্রেক্ষিতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপারেশন ফার্স্ট লাইট এখনো চলছে; গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়তে পারে।’
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘রাতভর ও ভোরে একাধিক স্থানে অভিযান হয়েছে। বেশ কয়েকজন পলাতক আসামি ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৪ জনকে ধরা গেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।’ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলমান এই অভিযানে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউল সারোয়ার জানান, ‘পোরশা-নিয়ামতপুর এলাকায় সাম্প্রতিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুরো জেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজন হলে আরও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’