এম. আনোয়ার হোসেনঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৪নং মাওহা ইউনিয়নের কিল্লাতাজপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকার দেওয়ান মিজাজ উদ্দিন খানের ছেলে দেওয়ান আহাদুজ্জামান খান আরজু’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত নথিপত্র ও তথ্যানুসারে, আরজু অতীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে দেওয়ান আহাদুজ্জামান খান আরজু কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। রাজনৈতিক পদবি ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে তিনি এই সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা জেলায় কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, আরজু তার রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় এবং প্রভাবকে ব্যবহার করে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তিনি। বিশেষ করে কৃষি পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একজন ছাত্রলীগ নেতা হয়ে কীভাবে তিনি সরকারি কৃষি বিপণন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেলেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া, তার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আরজুর ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক অতীত এবং বর্তমান দাপ্তরিক অবস্থানের সমন্বয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা দেওয়ান আহাদুজ্জামান খান আরজু বলেন, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম কিন্তু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছি।
https://www.kaabait.com