March 3, 2026, 11:01 am
মিঠুন শিকদার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতের কাছে তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একটিতে বিজয়ী হলেও, যুগ-যুগ ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের ছোট্ট জেলা ঝিনাইদহে উল্টে গেছে সকল সমীকরণ। ফলে, অত্র জেলায় দলটির আশু ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে ভাবছেন নীতিনির্ধারকরা।
নির্বাচন পরবর্তী এক বিশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়,
জেলা বিএনপির একের পর এক ভুলে ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু), ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) ও ঝিনাইদহ-৪ (কালিগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের একাধিক বক্তব্যে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তৃণমূলের এ-সকল নেতা-কর্মী আরও বলেন, “ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির প্রাণপুরুষ ও সাবেক সভাপতি, জননেতা আলহাজ্ব মশিউর রহমানকে মেটিকুলাস সিস্টেমে জেলা বিএনপি থেকে সুকৌশলে সরিয়ে দেয়ার পরেই অত্র জেলায় বিএনপির শক্ত স্তম্ভ ভেঙে গেছে। সেদিনের পর থেকে অত্র জেলায় ক্রমাগতভাবে সাধারণ জনগণের কাছে পর্যায়ক্রমে সকল আস্থা হারিয়েছে আমাদের দল। একইসাথে, মশিউর রহমানকে সরিয়ে দলীয় পদ দখল করে, বিগত সরকারের আমলে জেলার নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে নানামুখী ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। এছাড়াও, নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা দল থেকে একের পর এক ত্যাগী নেতা-কর্মী ছাটাই করেছে। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে আসা হাইব্রিড নেতা-কর্মীকে দলে ভিড়িয়েছে, যা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এঁর ব্যক্তি আদর্শের রাজনীতিকে তোষামোদের চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মূলত, মশিউর রহমান গত হওয়ার পরেই জেলা বিএনপি ধ্বংস হয়ে গেছে।”
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহে বিএনপির ভরাডুবি সম্পর্কে আরও জানা যায়, পাঁচ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকেই অত্র জেলা জুড়ে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, দখলদারিত্ব ও সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। সেইসাথে, দলে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন ও জায়গা না থাকায় পুরো জেলায় অভ্যন্তরীণ দলীয় গ্রুপিং ও চরম সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে, উপেক্ষিত ও অবমূল্যায়িত হয়েছে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীবৃন্দ। তারই অনিবার্য ফল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপির ভরাডুবি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ঝিনাইদহে এমন ভরাডুবির যখন দাবার গুটি জামায়াতের অনুকূলে, ঠিক তখনই নড়েচড়ে বসেছে দলের হাইকমান্ড। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরে ঝিনাইদহে এমনই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের পক্ষ থেকে আসছে কঠোর নির্দেশনা।
এদিকে, জেলা বিএনপি’র ত্যাগী নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সমাজের রাজনীতি সচেতন মহল মনে করছেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সাবেক সফল সভাপতি ও টানা চার বারের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা আলহাজ্ব মশিউর রহমান এঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী আয়কর আইনজীবী মাহবুবা রহমান শিখাই এই মুহুর্তে হতে পারেন দলের জন্য একমাত্র পরিত্রাণের সঠিক পথ।
সম্প্রতি ঝিনাইদহে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রয়াত মশিউর রহমান এঁর সহধর্মিণী আয়কর আইনজীবী মাহাবুবা রহমান শিখা সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। এ-বিষয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, মাহবুবা রহমান শিখা’র এমপি প্রার্থিতা স্থানীয় বিএনপি’র ত্যাগী নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে নব উদ্দীপনায় আশা জাগিয়েছে। পেশায় আয়কর আইনজীবী মাহাবুবা শিখা জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য ও জেলা মহিলা দলের সম্মানিত উপদেষ্টা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজ মনে করেন, মশিউর রহমান গত হওয়ার পর থেকে উপেক্ষিত হয়েও, তিনি যেভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছেন, তাতে করে দলীয়ভাবে পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে অত্র জেলায় বিএনপির হারানো গৌরব আবারও ফিরে আসবে।
এ-সময় তারা আরও বলেন,
“সমগ্র ঝিনাইদহে জননেতা মশিউর রহমান এঁর অনন্য অবদান রয়েছে। তাঁকে ঝিনাইদহের আপামর জনসাধারণ আজও পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। তাঁর সহধর্মিণী জাতীয় সংসদে মহিলা এমপি হলে, সারা জেলা জুড়ে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা পুনরায় ফিরে আসবে। সেইসাথে, ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনসহ পুরো জেলায় বিএনপি’র ঘাঁটি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।