পোরশা(নওগাঁর)প্রতিনিধিঃ কঠোর পরিশ্রম আর সততা যে মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ নওগাঁর পোরশা উপজেলার ওসমান গনি। উপজেলার অলিতে-গলিতে ঘুরে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে চটপটি বিক্রি করেই আজ তিনি পুরোপুরি স্বাবলম্বী।
একসময়ের সাধারণ এই মানুষটি আজ নিজের মেহনতের জোরে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন, হয়েছেন এক পাকা বিল্ডিংয়ের মালিক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে পোরশার নিতপুর মাস্টার পাড়া গ্রামে বসবাস করতেন ওসমান গনি।
অভাব-অনটনের সংসারে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ চটপটি বিক্রির ব্যবসা। প্রতিদিন চটপটি বিক্রির জমানো টাকা থেকেই বর্তমানে তিনি উপজেলার গোপীনাথপুরে নিজস্ব জায়গা কিনে তৈরি করেছেন এক দৃষ্টিনন্দন পাকা বিল্ডিং বাড়ি।
শুধু বাসস্থানই নয়, চটপটি বিক্রির আয় দিয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে নিজের দুই মেয়ে ও এক ছেলের ভরণপোষণ করেছেন ওসমান গনি। ইতিমধ্যেই দুই মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে বাবার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন তিনি।
বর্তমানে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সুখের দিন কাটছে তার।এলাকাবাসী জানান, ওসমান গনির চটপটির স্বাদ ও পরিচ্ছন্নতার কারণে পুরো পোরশায় তার একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে। যারা বেকারত্ব নিয়ে হতাশায় ভোগেন, তাদের জন্য ওসমান গনি এক বড় অনুপ্রেরণা। কোনো কাজই যে ছোট নয়, তা তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
নিজের এই অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে আবেগপ্লুত ওসমান গনি বলেন, “একসময় দিন আনি দিন খাই অবস্থা ছিল। কিন্তু আমি সততা আর পরিশ্রমের ওপর ভরসা রেখেছিলাম। আজ আল্লাহর রহমতে নিজের জায়গায় বিল্ডিং বাড়ি করতে পেরেছি, মেয়েদের বিয়ে দিতে পেরেছি—একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!”
শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে চটপটি বিক্রেতা ওসমান গনির এই স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প আজ পোরশা উপজেলার তরুণদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
https://www.kaabait.com