June 17, 2026, 12:01 am

শিরোনাম :
নওগাঁর মান্দায় নিজ অর্থায়নে সমাজসেবক লুৎফরের রাস্তা সংস্কার নানা আয়োজনে নওগাঁয় বর্ষা উৎসব পালিত সাপাহারে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন মাদকের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান: টেকনাফে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক বেলকুচিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে ডিসির মতবিনিময় ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ হ্নীলা ইউনিয়ন: নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক সংস্কারের অভিযোগ, ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা নওগাঁ শহরের নিরাপত্তায় ডিজিটাল নাইট ভিশন এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থপনের উদ্যোগ পুলিশ সুপারের সান্তাহারে ১২ কেজি গাজা ও একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে বসবাসরত স্থানীয়দের অধিকার রক্ষায় অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

নওগাঁয় ন্যাশনাল মডেল স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল মডেল স্কুল-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণা, ভুয়া কাবিন, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বর্তমানে একাধিক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী এক নারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ফরহাদ তার বৈধ স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও স্কুলে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বিশেষ করে যেসব অভিভাবিকার স্বামী প্রবাসে বা বাড়ির বাইরে থাকেন তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে এক অভিভাবিকার সঙ্গে ফরহাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি নিয়মিত সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতেন এবং তার ছেলেকে বাসায় প্রাইভেট পরাতে যেতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হলে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুলের পরিচালক শহীদ প্রাং গোপনে সমঝোতার মাধ্যমে ওই নারীকে তার সংসারে ফেরত পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ফরহাদ হোসেন ওই স্কুলের অফিস সহায়িকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফরহাদ ভুয়া কাজী ও ভুয়া কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ে করেন। দেনমোহর বাবদ ছয় লাখ টাকা দেখিয়ে একটি ভুয়া জমির কাগজ উপস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী নারী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেন। শুনানি শেষে প্রতারণা মামলায় ভুয়া কাজীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী নারী পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করলে আদালত সার্বিক দিক বিবেচনায় কাবিন করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী ফরহাদ ওই নারীকে কাবিন করতে বাধ্য হন। এরপর দেনমোহর আদায়ে পারিবারিক আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় একদিন আদালত চত্বরে ফরহাদ ভুক্তভোগী নারীকে মারধর করেন এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এ ঘটনায় আবারও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুলের প্রিন্সিপাল আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে উভয়ের সংসার হবে বলে জানান। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েকবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাতায়াত করেন এবং ওই নারীকে জানান, বাচ্চা নিলে পরিবারের সবাই মেনে নিবে এরপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয় তার প্রেক্ষিতে ওই নারী প্রেগনেন্ট হয়। কিন্তু পরে আবারও ফরহাদ স্পষ্ট করে জানান, তিনি ওই নারীর সঙ্গে সংসার করবেন না বিধায় ওই নারী বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য হয় এবং অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারনে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরৎ আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক স্কুলে কর্মরত থাকার সুযোগ নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিভাবকদের মানসিক স্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক নারীর সঙ্গে পরিচয় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ওই নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এছাড়া আরেক নারীর বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরো বলেন, আপনাদের যা করার আছে তা করেন।

ঘটনার বিষয়ে ন্যাশনাল মডেল স্কুলের পরিচালক শহীদ প্রাং এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধারাবাহিকভাবে যে ঘটনাগুলো বলেছেন সবগুলোই সত্য। আমি এ ঘটনায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জানি, বিয়ের সময় আমি ছিলাম। ওদের বিষয় নিয়ে একাধিকবার বসা হয়েছে সমাধানের জন্য কিন্তু সমাধান হয়নি। আমার দৃষ্টিতে ফরহাদ একজন নিকৃষ্ট ছেলে এবং যে নারীর কথা বলা হচ্ছে সে নারীও খারাপ। আর এর থেকে বেশী বা অন্যান্য বিষয়ে বক্তব্য চাইলে সামনাসামনি ছাড়া বক্তব্য দেয়া সম্ভব নয়।

এদিকে এ বিষয়গুলো নিয়ে ন্যাশনাল মডেল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আপস মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন এবং নিউজ করতে নিষেধ করেন। তিনি আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য প্রদান করেননি।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের একজন বলেন, “শিক্ষকতা একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠদানই করেন না, বরং তাদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক বিষয়। আমরা চাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *