• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমে বড় গডফাদারদের নাম না আসা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন নন্দীগ্রামে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত নন্দীগ্রামে ইউএনও ও ওসি’র সাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময় নওগাঁর মহাদেবপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগে কর্মকর্তাকে শোকজ বাকেরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের দাবিতে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজশাহীতে জেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল! বিজিবির তৎপরতায় ৫ ঘণ্টার অভিযানে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার সংগ্রামকে জয় করে স্বপ্ন পূরণ: জান্নাতুল ফেরদৌসের অনুপ্রেরণার গল্প নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে বাদী কারাগারে নেওয়াশী ইসলামিয়া মাদ্রাসায় নবনিযুক্ত সভাপতি ডা. ইউনুস আলীকে সংবর্ধনা ও আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় মাহফিল

এসি মেকানিক থেকে ঠিকাদার সাম্রাজ্য! ভুট্টুর উত্থানে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছায়া

Reporter Name / ৬৮৫ Time View
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধি:                                                        নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন ভুট্টু (এসি ভুট্টু) যিনি কয়েক বছর আগেও ছিলেন একজন সাধারণ এসি মেকানিক, বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক ও প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তার এই অস্বাভাবিক উত্থানকে ঘিরে নতুন করে উঠে এসেছে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের একাধিক অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় সিঙ্গার কোম্পানিতে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করা ভুট্টু অল্প সময়ের মধ্যেই গড়ে তোলেন শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। আদালতের সাবেক কর্মচারী মামুনুর রশিদ বাঁধনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে তিনি জড়িয়ে পড়েন নিয়োগ বাণিজ্যে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্তত ১১ জনকে আদালতের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও রয়েছেন।
এদিকে নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদ হোসেনের সঙ্গে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। জানা যায়, নওগাঁয় কর্মরত থাকাকালীন তানজিদ হোসেন একটি মামলায় জড়িয়ে পড়লে ভুট্টুর সহযোগিতায় তা নিষ্পত্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বিচারকের সঙ্গে ভুট্টুর সখ্যতার কারণেই এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব হয়।
এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার বিশেষ করে এসি সরবরাহ ও মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত কাজ নিয়মিতভাবে ভুট্টুকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে অধিক মুনাফা অর্জনের পর সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় বলেও দাবি করেছেন একাধিক সহযোগী।
সূত্র আরও জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরও দুই-তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে ভুট্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ পেয়ে তিনি বর্তমানে বড় মাপের ঠিকাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
এছাড়া, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে ফেলতে এবং সাংবাদিকদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, কিছু সাংবাদিককে টাকা দিয়ে সংবাদ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিদ হোসেন। তিনি বলেন, “নওগাঁয় থাকাকালীন পরিচয়ের সূত্রে তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। এমনকি একবার বিমানে ভ্রমণের সময় একটি সেলফিও রয়েছে। তবে এর বাইরে কোনো ধরনের আর্থিক বা অনৈতিক সম্পর্ক নেই।”
উল্লেখ্য, তানজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মনোয়ার হোসেন ভুট্টুও সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছেন, একজন সাধারণ মেকানিক থেকে স্বল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক হওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি টেন্ডারে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস ও টেন্ডার প্রক্রিয়া গভীরভাবে তদন্ত করা হলে একটি বৃহৎ দুর্নীতির সিন্ডিকেটের চিত্র উন্মোচিত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com