• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫০
শিরোনামঃ
পোরশায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাজিনাপুকুর-শিমুলডাঙ্গা গ্রামবাসীর সংবর্ধনা প্রদান মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডা. লিটনের প্রচেষ্টায় ভায়া মেডিকেল ক্যাম্প ধামইরহাটে এম.পি এনামুল হক কর্তৃক ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসার নতুন ভবন উদ্বোধন পবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন করলেন ভিসি ড. হেমায়েত জাহান রাজশাহী রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি লালপুর থানার শফিকুল ইসলাম! আদমদীঘিতে নব-বিবাহিত স্ত্রীকে না পেয়ে আত্নহত্যা করলো যুবক সোহান নন্দীগ্রামে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি’র দায়ে মোবাইল কোর্টে সার ব্যবসায়ী’র ৫৫হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁয় ‘ব্যাড টাচ’ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার সাপাহারে কৃষিজমিতে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন, মোবাইল কোর্টে লাখ টাকা জরিমানা

দনিয়া কলেজে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মোঃ আনোয়ার হোসেন / ২৭ Time View
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী দনিয়া কলেজে একের পর এক বেরিয়ে আসছে শিক্ষক নিয়োগে অভূতপূর্ব জালিয়াতি, ব্যাকডেটে আবেদন গ্রহণ, ভুয়া রোল নম্বর তৈরি এবং লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। কখনো পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ, কখনো অননুমোদিত কোর্সের বিপরীতে বেআইনি সরকারি এমপিও সুবিধা গ্রহণ, আবার কখনো টানা এক দশক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও পদ বহাল রাখা, সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে অনিয়মের মহোৎসব। সম্প্রতি দুই দশকের নথি পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন একাধিক জালিয়াতির চিত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৭ অক্টোবরে দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রিধারীদের ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়।
​তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তৎকালীন গভর্নিং বডির সদস্য মো. আবুল কাশেম মোল্লার পুত্রবধূ তানজিলা রাহাতের (বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক, ইনডেক্স নং-৪৩০৩৩৪) বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখে মাস্টার্স পাসের সনদই ছিল না। তাঁর স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালের ২৩ নভেম্বর। আইনি দৃষ্টিতে অযোগ্য হলেও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খালেকুজ্জামান ও গভর্নিং বডির সদস্যের যোগসাজশে ১৯৯৯ সালের ১১ জানুয়ারি সাবেক এক স্থানীয় এমপির সুপারিশকৃত একটি ফাঁকা আবেদন জমা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অফিস সহকারীকে দিয়ে ব্যাকডেটে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ১০ নভেম্বর দেখিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়, যাতে ছিল না বিজ্ঞপ্তির সূত্র বা পোস্টাল অর্ডার।

​পরীক্ষায় জালিয়াতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয় রোল নম্বরের অসঙ্গতিতে। মোট দরখাস্তকারী ৩০ জন হলেও তানজিলা রাহাতের আবেদনে বসানো হয় ৩৫ নম্বর রোল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রকৃত মেধাবী প্রার্থীরা সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তানজিলা রাহাতকে চূড়ান্ত করা হয়।
​সবচেয়ে বড় অনিয়ম ঘটে এমপিওভুক্তিতে। দনিয়া কলেজে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষের পূর্বে বিএসসি (বিজ্ঞান) কোর্সের কোনো সরকারি অনুমোদনই ছিল না। অথচ শিক্ষা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ১৯৯৯ সালেই তাঁকে বিএসসি কোর্সের শিক্ষক হিসেবে সরকারি এমপিওভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অডিটের ভয় কাটাতে কাগজপত্র ঘষামাজা করে মূল মেধাবী প্রার্থীকে পদ বঞ্চিত করে নিম্নপদে ঠেলে দেওয়া হয় এবং তানজিলা রাহাতকে পর্যায়ক্রমে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

আরো অভিযোগ রয়েছে, একই বিভাগের অনিয়ম এখানেই শেষ নয়। ২০০৩ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে কোনো প্রকার লিখিত বা মেধা পরীক্ষা ছাড়াই ২০০৪ সালে হাবিবা সুলতানা নামের এক প্রার্থীকে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয় (নিয়োগপত্র সূত্র: গভর্নিং বডির ১৮০ নং সভা, ০২/০৬/০৪)। তিনি ২০০৪ সালের ৩০ নভেম্বর যোগ দেন।

​কলেজের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে তিনি সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে কলেজে অনুপস্থিত। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে চাকরিচ্যুতির বিধান থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এই অনুপস্থিতিকে আইনি বৈধতা দিতে এবং অনিয়ম ঢাকা দিতে একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে মোটাঅংকের অর্থের বিনিময়ে ব্যাকডেটে কাগজপত্র ঠিক করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত কোর্স ছাড়া সরকারি এমপিও সুবিধা গ্রহণ পেনাল কোডের ৪০৯ ও ৪২০ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ ও বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। এছাড়া নথিপত্রে ব্যাকডেট ও ভুয়া রোল ব্যবহার ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতন মহল ও অভিভাবকবৃন্দের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অবৈধ বেতন-ভাতা ফেরতসহ জড়িত গভর্নিং বডি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তানজিলা রাহাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অপর অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবা সুলতানা এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com