শফিক টুটুল পিরোজপুরঃ
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত ১১ জন শিক্ষকের বিপরীতে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী। তবে অভাবনীয় বিষয় হলো, এই ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং বাকি ১০ জনই ফেল করেছে। এমনকি পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নাম ও রোল নম্বরও তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় অফিস থেকে জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক, ১ জন ক্লার্ক এবং ১ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ১৩ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়। বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের এই দুরাবস্থা এবারই প্রথম নয়। গত বছরও (২০২৫ সাল) এই বিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ১ জন পাস করেছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার পেছনে শিক্ষকদের চরম অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
এই হতাশাজনক ফলাফলের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে উল্টো দায় চাপিয়েছেন শিক্ষার্থীদের ওপর। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অনেক চেষ্টা করেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা যায় না। তারা ঠিকমতো পড়াশোনা না করলে শিক্ষকদের কিছু করার থাকে না। এমনকি একমাত্র পাস করা শিক্ষার্থীর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন মনে নেই, পরে জানাব”।
নেছারাবাদের এই বিদ্যালয়ের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ফলাফল ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার বজায় রাখতে অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া উচিত।
https://www.kaabait.com