• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬
শিরোনামঃ
নন্দীগ্রামে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রাইমারী স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনে সংহতি: ‘অপহরণ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত টেকনাফ-উখিয়া চাই নন্দীগ্রাম থালতা মাঝগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন বেলায়েত হোসেন আদর পোরশায় জমি সংক্রান্ত সালিশে মারামারি, ইউপি সদস্যসহ আসামিদের হামলায় আহত ৫ সাপাহারে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ ও আম বাজার স্থানান্তর বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অ্যাব এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের উপস্থিতিতে মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সান্তাহারে আশা আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ; ফ্যাক্টারী সিলগালা নীলফামারী আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা ধামইরহাটে সংঘাত নয়-শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুমকিতে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতার ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজগংয়ের হামলা

শত শত কবর খননকারী কেরামত আলী, হারিয়েছেন কোদাল উঁচিয়ে ধরার জোর!

Reporter Name / ১০৭ Time View
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী।

জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও অধিক সময়ে প্রায় ৬০০’র বেশি মানুষের শেষ শয্যা তৈরি করেছেন তিনি। যে মাটি একদিন তার হাতের ছোঁয়ায় প্রাণহীন দেহকে আগলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতো, আজ সেই হাতে কোদাল ধরার শক্তিটুকু হারিয়েছেন তিনি। বয়সের ভার আর ক্লান্ত শরীরের কাছে হার মেনে অবশেষে কবর খনন থেকে অবসর নিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার গাওপাড়া গ্রামের পরিচিত মুখ গোরখোদক কেরামত আলী (৮০)।

নিঃস্বার্থ এই অভিযাত্রায় আশেপাশের গ্রামের মানুষের কাছে কেরামত আলী মানেই ছিল এক নির্ভয় ভরসা। গভীর রাত হোক কিংবা তপ্ত দুপুর, কারো মৃত্যুর খবর কানে আসামাত্রই কাঁধে কোদাল তুলে নিতেন তিনি।

এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘ পাঁচ দশকে তিনি আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ টির মতো কবর খনন করেছেন। কোনো প্রকার পারিশ্রমিকের লোভ তাকে স্পর্শ করেনি; বরং পরকালের হিসেবেই তিনি এই কঠিন কাজটিকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দিনমজুর। মৃত্যুর খবর শোনার সাথে সাথে তিনি কাজ ফেলে চলে আসতেন কবর খনন করতে। তবে কোন দিন কারো থেকে এই কাজের জন্য কোন টাকা নিতেন না। কাজটি তিনি করতেন নিঃস্বার্থভাবে।

এই সংবাদটির প্রতিবেদক সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট এর সঙ্গে কবর খননের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অসুস্থ কেরামত আলীর চোখ ভিজে ওঠে। তিনি বলেন “হিসাব তো কোনোদিন রাখিনি দাদা , তবে খাতায় নাম লিখলে আস্ত একটা গ্রাম হয়ে যেত। কচি শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ সবার ঘর বানিয়েছি। এখন যখন কবরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটি, মনে হয় প্রতিটি মাটি আমায় চেনে। কিন্তু এখন আর কোদালটা উঁচিয়ে ধরার জোর পাই না।”

স্থানীয়রা জানান, কেরামত আলীর অবসর নেওয়া কেবল একজন ব্যক্তির কাজ থামা নয়, বরং একটি ভরসার জায়গার সমাপ্তি। তারা আরও জানান, তার খনন করা কবরে কখনো পরিমাপের ভুল হতো না। শক্ত মাটি কিংবা পাথুরে জমি কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারতো না। বর্তমানে কেরামত আলীর দিন কাটে মসজিদের বারান্দায় কিংবা নিজের বাড়ির উঠোনে। শরীর সায় দেয় না বলে এখন আর কবরের গভীরে নামা হয় না তার। তবে গ্রামের নতুন ছেলেরা যখন কবর খুঁড়তে যায়, দূর থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায় তাকে।

কেরামত আলী হয়তো আর কোনোদিন সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর বানাবেন না, কিন্তু শত শত মানুষের শেষ ঠিকানার সাক্ষী হয়ে তিনি মিশে থাকবেন এই জনপদের ইতিহাসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com