June 4, 2026, 7:40 pm
মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: একাত্তরের রণাঙ্গনে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মান্নান (৭৭)। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসে তাকে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার অধিকার পেতে। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমি লিখে না দেওয়ায় এই বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে জখম করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ছেলে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। এমনকি বৃদ্ধের শেষ সম্বল একটি গরু ও মোটরসাইকেলটিও কেড়ে নিয়েছে পাষণ্ড ছেলে।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এই বীর সন্তান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, আর আজ নিজের ছেলের হাত থেকে বাঁচতে থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। মেয়ে তাড়িয়ে দিলে এখন আমার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও জানান, আমাকে প্রায় প্রায় মারধর করে বাড়িতে খাবার দেয়না, মেয়ের বাড়িতে থেকে যে খাবার দেয় তা খেয়ে আমার দিন চলে, আমার কাছে থেকে জমি ও বাড়ি লেখে চায়, সরকার থেকে দেওয়া আমার শেষ সম্বল বীরনিবাস বাড়ি সেটি লেখে না দেওয়ার আমাকে মারধর করে এবং মুখের দাঁড়ি ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। থানায় মামলা দিতে গেলে একটা অভিযোগ নেয় সেই অভিযোগের বিচার এখনো আমি পাইনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানকে তার বড় ছেলে মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে আব্দুল মান্নান বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় মামুন তার ওপর চড়াও হন। জমি লিখে দিতে অস্বীকার করায় তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।
দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে বাবার চিৎকার শুনে মেয়ে পপি আক্তার ও জামাতা আমেদুল ইসলাম এগিয়ে এলে মামুন তাদের ওপরও লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। লাঠির আঘাতে জামাতা আমেদুলের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং মেয়ে পপি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর থেকে আব্দুল মান্নান বিভিন্ন হুমকি ধামকী দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ছেলে মামুন শুধু মারধরই করেননি, বাবার উপার্জনের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছেন। বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে না পারা এই মুক্তিযোদ্ধা এখন ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষী ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টা জেনেছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।