April 14, 2026, 2:51 pm

শিরোনাম :
নাজিরপুরে শিক্ষার্থী ৫ জন বিপরীতে শিক্ষক ৪  স্কুল ঘরের পাশে গরুঘর,ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম। বেরোবিতে চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চারঘাটে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুরের উন্নয়ন ও সংকট উত্তোরণে কাজ করার অঙ্গীকার নবাগত জেলা প্রশাসকের রংপুর নগরীতে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে রসিক প্রশাসকের সাথে ব্যবসায়ীদের সভা রংপুরে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা মামলায় আসামী পলাশের মৃত্যুদন্ড পোরশায় পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগে লক্ষাধীক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ আদমদীঘিতে মাটি খেকোদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী; নিরব ভূমিকায় প্রশাসন সাপাহারে আল-হেলাল ইসলামী একাডেমীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল উনচিপ্রাং–রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া সিএনজি চালক সমবায় সমিতির নির্বাচন ৮ মে

নাজিরপুরে শিক্ষার্থী ৫ জন বিপরীতে শিক্ষক ৪  স্কুল ঘরের পাশে গরুঘর,ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম।

শফিক টুটুল, নাজিরপুর (পিরোজপুর):

‎পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র পাঁচ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার নিম্নমান ও অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর দীর্ঘা ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। ভাঙা টিনের বেড়া, কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণ সামগ্রী এবং এলোমেলো বেঞ্চ শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একটি গরুর খামার, যা শ্রেণিকক্ষের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন- এমন বাস্তবতায় পাঠদান কার্যক্রম নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকলেও ওই দিন বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা নিয়মবহির্ভূত। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র পাঁচজন, ফলে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমও প্রায় বন্ধের মুখে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশে গবাদিপশুর খামার থাকায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি তাদের।

‎পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানায়, তারা ক্লাসে দুইজন, প্রথম শ্রেণিতে একজন, অন্য শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। ম্যাডামরা সকাল ১০টায় এসে দেড়টার মধ্যে চলে যায়।

বিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক দপ্তরি মিতু সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আজ স্কুল খোলা না বন্ধ, তা জানি না। প্রতিদিনের মতো আজও পতাকা উত্তোলন করেছি। স্কুলে শিক্ষার্থী কম, শিক্ষকরা বিকেল তিনটা-সাড়ে তিনটার মধ্যে চলে যান। স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ভেতরে গরুর ঘর তৈরি করেছেন।’

‎এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
‎উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান বলেন, ‘ছুটির দিনে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলায় জানানো হয়েছে।’
‎উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে রাখা পতাকার অবমাননার শামিল। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পাশে গরুর খামার ও শিক্ষার্থী সংকটসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *