June 5, 2026, 10:00 am

শিরোনাম :
জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে “নবজাগরণ পাঠাগার” এর আত্মপ্রকাশ নীলফামারীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বজ্রপাতে দুই গাভীর মৃত্যু, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুছার রহমান চির নিদ্রায় সায়িত হলেন এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের সহধর্মিনী কোহিনুর বেগম । সাপাহারে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত পশু চামড়ার স্তুপ দুর্গন্ধে জনজীবণ অতিষ্ঠ সাপাহার আম বাজারে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান সাপাহারে জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় পোরশায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ইন্তেকাল নওগাঁয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের দাবি

নন্দীগ্রামে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় কৃষক

মামুন আহমেদ,নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:                  বগুড়ার নন্দীগ্রামে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব। কষ্টে অর্জিত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা। তবে বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি, বরং দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তার ছাপ।

ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, জ্বালানি তেলের সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা সব মিলিয়ে চাপে রয়েছেন কৃষকরা। তারা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়লে হয়তো কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা ভালো ফলনের সুফল পেতে পারেন।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবখানেই পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ চলছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান মাড়াইয়ের খরচও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। উপজেলার রিধইল গ্রামের প্রান্তিক কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, অনেক টাকা খরচ করে ৬ বিঘা জমিতে মিনিকেট জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। এক-দুই দিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু করব। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও প্রতি বিঘা ধান কাটতে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আবার মাড়াইয়ের জন্য তেল কিনতেও চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের দাম বেশি, কাটার খরচ বেশি অন্যদিকে ধানের বাজার মূল্য কম। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এছাড়া শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ডিজেল সংকটের অজুহাতে মাড়াই মেশিন মালিকদের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি খরচে ধান তুলতে হচ্ছে কৃষকদের।
বর্তমানে বাজারে মিনিকেট ধান প্রতি মণ ১১৭০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও কৃষকদের মতে, তা উৎপাদন খরচের তুলনায় যথেষ্ট নয়। উপজেলার ফসলি জমিতে বছরে তিনবার ধান চাষ হলেও বোরো মৌসুম সবচেয়ে ব্যয়বহুল। প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধান উৎপাদন থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়।
কৃষকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ধানের দামেও তারা লাভবান হতে পারছেন না। ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা স্বস্তি ফিরে পেতেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, নন্দীগ্রামের কৃষকরা ধান উৎপাদনে দক্ষ। আমরা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে তাদের বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। বিগত বছরের মতো এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারমূল্যও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *