• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০২
শিরোনামঃ
মাদক বিরোধী ফুটবল ম্যাচে বাকেরগঞ্জের বিপক্ষে দুমকির দাপুটে জয় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হও, তোমাদের অপেক্ষায় দেশ—এমপি মোশারফ স্ত্রীর সাথে অভিমান করে বাকেরগঞ্জে যুবকের আত্মহত্যা পোরশায় উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত পোরশায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাজিনাপুকুর-শিমুলডাঙ্গা গ্রামবাসীর সংবর্ধনা প্রদান মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডা. লিটনের প্রচেষ্টায় ভায়া মেডিকেল ক্যাম্প ধামইরহাটে এম.পি এনামুল হক কর্তৃক ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসার নতুন ভবন উদ্বোধন পবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন করলেন ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

রাজশাহীতে পুলিশের মানবিক উদ্যোগে বাঁচলো বিসিএস পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

Reporter Name / ২১৯ Time View
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

তন্ময় দেবনাথ রাজশাহীঃ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত রাখলো রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। এডমিট কার্ড ভুলে আসায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঝুঁকিতে পড়া এক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সার্জেন্ট বিপুল ও এএসআই মোঃ জেনারুল ইসলাম যে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সহায়তা প্রদান করেছেন, তা পুলিশ–জনতার আস্থার সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলো।

পরীক্ষার্থী জসীম উদ্দীন, অর্থনীতি বিভাগ, সেশন ২০১৩–১৪, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে তিনি রাবির জুলাই-২৪ হলে অতিথি হিসেবে অবস্থান করছেন। আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা দিতে রাজশাহীর মিশন গার্লস স্কুল কেন্দ্রে পৌঁছালে তিনি বুঝতে পারেন এডমিট কার্ড হলে ফেলে এসেছেন।

হতাশায় ভেঙে পড়া পরীক্ষার্থী গেটে ডিউটিরত পুলিশ সার্জেন্ট বিপুলের কাছে অসহায়ভাবে বলেন,“স্যার, আমি এডমিট কার্ড ভুলে এসেছি। এখন কীভাবে আনবো? মনে হয় আর পরীক্ষা দিতে পারবো না।”

পরীক্ষার্থীর পরিস্থিতি গভীরভাবে উপলব্ধি করে সার্জেন্ট বিপুল কোনো বিলম্ব না করে দায়িত্বে থাকা এএসআই মোঃ জেনারুল ইসলামকে নির্দেশ দেন দ্রুত পরীক্ষার্থীকে মোটরবাইকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে গিয়ে এডমিট কার্ড সংগ্রহ করে ফিরিয়ে আনতে।

অত্যন্ত দ্রুততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেন এএসআই  জেনারুল ইসলাম। তিনি পরীক্ষার্থীকে মোটরবাইকে করে হলে পৌঁছে এডমিট কার্ড সংগ্রহ করান এবং মাত্র কিছু মিনিটের ব্যবধানে আবার পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনেন।

সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তারা গেটে উপস্থিত হন এবং পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।

পরীক্ষার্থী জসীম উদ্দীন কৃতজ্ঞতায় আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
“আজ পুলিশের সহায়তা না পেলে আমার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হতো না। তারা আমার জন্য যা করেছেন, তা কখনো ভুলব না।”

সার্জেন্ট বিপুল বলেন,“মানুষের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। একজন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন ছোট একটি ভুলের কারণে নষ্ট না হয়—এটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।”

এএসআই জেনারুল ইসলাম বলেন,“সময়ের চাপে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একজন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতে অবদান রাখতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।”

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)র উপ-পুলিশ কমিশনার,গাজিউর রহমান পিপিএম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি মানবিক কার্যাবলীর জন্য বিভিন্ন সময়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে। বিশেষ করে করোনা কালীন যখন আপন মানুষ মৃত্যু ভয়ে করোনা আক্রান্ত স্বজনকে রেখে পালিয়ে গেছে পুলিশ নিজের জীবন বাজি রেখে সেই সমস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আত্ন উৎসর্গ করতেও পিছু পা হয় নি। একজন ছাত্র যে লেখাপড়া শেষে চাকরি পেতে চায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার প্রথম চয়েস হয় বিসিএস। এটি অনেকের স্বপ্ন। শুধুমাত্র একটি ভুলের জন্য তার স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না এটি মর্মান্তিক। তাই কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যগণ বরাবরের মতই একজন ছাত্রের স্বপ্ন পূরণের পথে তার সাধ্যমত পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশের পরিচয় দিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

রাজশাহীতে পুলিশের এই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com