নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শ্রাবণের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখন উপজেলার মাঠজুড়ে চলছে রোপা আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। সোনালি ধানের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে ছুটছেন এই উপজেলার কৃষকরা। সূর্য ডোবার পরও কোথাও কোথাও রাত পর্যন্ত চলছে জমিতে হাল চাষের কাজ।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার মাঠজুড়ে এখন যেন এক ভিন্ন দৃশ্য। কোথাও ট্রাক্টরের গর্জনে জমি চাষ হচ্ছে, কোথাও বীজতলা থেকে সবুজ চারা তুলে আঁটি বাঁধছেন কৃষকরা। আবার কেউ কাদাপানিতে নেমে সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। অন্যদিকে অনেকেই জমি সমান করা, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শ্রাবণের নিয়মিত বৃষ্টিপাতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমে থাকায় আমন ধান রোপণের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কে কার আগে জমিতে রোপণ কাজ শেষ করবেন, তা নিয়েও চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। মাঠে স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌসুমি কৃষিশ্রমিকদেরও ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২২৫ হেক্টর জমিতে রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এবার কৃষকরা স্থানীয় জনপ্রিয় জাত স্বর্ণা-৫, রঞ্জিত ও কাটারি ধানের পাশাপাশি উন্নত জাতের বিনা-৭, বিনা-১৭, বিনা-২২, বিনা-২৬ এবং ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪ ও ব্রি ধান-৯৫ জাতের চারা রোপণ করছেন। এসব উচ্চ ফলনশীল জাত ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে। রিধইল গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। আমন চাষের জন্য এখন সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বাজারে সার ও কীটনাশকেরও কোনো সংকট নেই। আমি স্বর্ণা-৫, ব্রি ধান-৪৯ এবং বিনা-১৭সহ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। বাদলাষন গ্রামের কৃষক জামিল জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় সেচের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমবে বলে তারা আশাবাদী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গাজীউল হক বলেন, রোপা আমন চাষে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করছেন। বিশেষ করে লাইন-টু-লাইন পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ, আগাছা দমন এবং রোগবালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২২৫ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এ বছর বাম্পার ফলন পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, সময়মতো বৃষ্টি, পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণের সরবরাহ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির কারণে চলতি মৌসুমে নন্দীগ্রামে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকের ঘরে উঠবে সোনালি ধান, আর সেই ধানই বদলে দেবে গ্রামের অর্থনীতির চিত্র।
https://www.kaabait.com