এস কে জাফর আলম টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধিঃ টেকনাফ: দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার ও পাচার রোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর উদ্যোগে এক সফল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ টেকনাফ সদরস্থ লামার বাজার এলাকায় বিজিবি, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে থাইল্যান্ডে তৈরি এবং মায়ানমার হতে অবৈধভাবে পাচারকৃত মোট ৪,৯৮,৭৫০ মিটার ক্ষতিকারক কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কারেন্ট জালের আনুমানিক সিজার মূল্য ২,৪৯,৩৭,৫০০/- (দুই কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ সাইত্রিশ হাজার পাঁচশত) টাকা।
অভিযানের বিবরণ ও গোয়েন্দা নজরদারি
বিগত প্রায় দুই মাস ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) টেকনাফ উপজেলায় অবৈধ কারেন্ট জাল মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। গোপন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় যে, মায়ানমার হতে পাচার হয়ে আসা অবৈধ কারেন্ট জালের একটি বড় চালান টেকনাফ বাজারের কয়েকটি গুদামে গোপনে মজুদ রাখা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ জুন সকালে টেকনাফ বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
যৌথ বাহিনীর কৌশলগত অভিযান
অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সুপরিকল্পিত নির্দেশনায় বিজিবি, নৌ-পুলিশ, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল গঠিত হয়।
সকাল ০৭:০০ ঘটিকা: আভিযানিক দল লামার বাজার এলাকায় গোপনে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।
সকাল ০৮:২০ ঘটিকা: যৌথ আভিযানিক দল লামার বাজার এলাকার মোট ০৪টি গুদামে একযোগে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে এবং গুদামসমূহের বিভিন্ন স্থানে কৌশলে লুকিয়ে রাখা এই বিপুল পরিমাণ জাল উদ্ধার করে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভূমিকা: যৌথ আভিযানিক দলের সুপরিকল্পিত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে এই বিশাল চালানটি ধরা সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের কারেন্ট জাল দেশের মৎস্যসম্পদ, বিশেষত পোনা মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই সফল অভিযানটি সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের পেশাদারিত্ব ও কার্যকর গোয়েন্দা সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
জাল ধ্বংসকরণ প্রক্রিয়া
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে।
উক্ত ধ্বংসকরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন:
জনাব রাকিব হোসেন চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), টেকনাফ।
উপ-অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।
জনাব ওবায়দুল হক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি, নৌ-পুলিশ।
https://www.kaabait.com