June 4, 2026, 5:04 pm
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রণবাঘা পশুর হাট এখন যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। কোরবানির শেষ সময় ঘনিয়ে আসতেই হাটজুড়ে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই এই হাটে গরু আসা শুরু হয়। শুক্রবার সকাল হতে না হতেই রণবাঘা পশুর হাটে মানুষের ঢল নামে। হাটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত গবাদিপশু আর দরদামের হাঁকডাকে জমে ওঠে ঈদ বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক বিক্রেতা পশু নিয়ে হাটে আসেন। অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পশু কিনতে আসেন অসংখ্য ক্রেতা। হাটে ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের দেশি গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের গরু পাওয়ায় এসব গরুর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে মাঝারি গরুর দামও ছিল বেশ চড়া। তবুও দরদাম শেষে হাসিমুখে গরু কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে অনেককে। গরু বিক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, আমি হাটে দুইটি গরু এনেছিলাম। আল্লাহর রহমতে দুটিই ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। এবার বাজারে ক্রেতা অনেক বেশি, তাই বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা ব্যাপারী রাজু বলেন, আমার পরিকল্পনা ছিল ১৫টি গরু কেনার। কিন্তু বাজারে দাম একটু বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৬টি গরু কিনেছি। এখানকার দেশি গরুর চাহিদা ঢাকায় অনেক ভালো।
হাটের ইজারাদার জানান, রণবাঘা পশুর হাট নন্দীগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ও নিরাপদ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় প্রতি বছরই এখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। কোরবানির আগে শেষ হাট হওয়ায় এবার পশুর আমদানিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নন্দীগ্রাম থানা ও হাইওয়ে থানা পুলিশের টহল টিম ছিল সার্বক্ষণিক তৎপর। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।