• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪
শিরোনামঃ
নওগাঁ ছেড়ে তাল বেলাল এখন পঞ্চগড়েদেবীগঞ্জে ২২ শত তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার পেল হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনদেবীগঞ্জ নওগাঁর মেধাবী অন্ধ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান: আশার আলো জ্বালালেন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম ধলু সাতক্ষীরা যুব ঐক্য পরিষদ” ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ বাকেরগঞ্জ ডিকেআইবি উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। নাজিরপুরে ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ, বাবাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর ধামইরহাটে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠান অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনিস আলীকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মহাদেবপুরে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

নওগাঁয় জ্বালানি সংকট: দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি, কালোবাজারে বাড়ছে তেলের দাম

Reporter Name / ১৩৯ Time View
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁয়ও। জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাত থেকে দিন পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। এরই মধ্যে ফুয়েল কার্ড চালুর পর ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের পাশাপাশি জারিকেনে করে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে কালোবাজারে চড়া দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

অনেক চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। নওগাঁ জেলার যানবাহন চালকেরা একদিন পরপর ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পাচ্ছেন, ফলে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জেলার সদর উপজেলার পার-নওগাঁ থেকে আসা ফারুক হোসেন বলেন, “আমি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করি। সে কারণে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। সারাদিন কাজ শেষে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না।”

অপরদিকে, একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত হাসান জানান, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা কাজের জন্য বাইরে থাকি। গভীর রাতে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে এখন অন্য পাম্পে যাচ্ছি। এখনো বাসায় ফিরতে পারিনি।”

মহাদেবপুর উপজেলার কৃষক সুমন হোসেন সেচ মেশিনের জন্য তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আমি রাত ৩টায় মেশিন নিয়ে এসেছি। সঙ্গে আমার ১০ বছর বয়সী ছেলে। মশার কামড় খেয়ে বসে আছি তেলের অপেক্ষায়। সকালে তেল পেলে জমিতে সেচ দিতে হবে।”

এদিকে ট্রলি চালক মিজান বলেন, “সারাদিন ইটভাটায় কাজ করি। সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাইরে খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এক লিটার ডিজেল ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তেল নিয়ে বাসায় ফিরব।”

একদিকে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, অন্যদিকে তেলের আশায় এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেকটিতে ছোটাছুটি করছেন চালকেরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে তেল কিনছেন।

যানবাহন চালকদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com