• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০
শিরোনামঃ
নওগাঁ ছেড়ে তাল বেলাল এখন পঞ্চগড়েদেবীগঞ্জে ২২ শত তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার পেল হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনদেবীগঞ্জ নওগাঁর মেধাবী অন্ধ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান: আশার আলো জ্বালালেন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম ধলু সাতক্ষীরা যুব ঐক্য পরিষদ” ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ বাকেরগঞ্জ ডিকেআইবি উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। নাজিরপুরে ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ, বাবাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর ধামইরহাটে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠান অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনিস আলীকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মহাদেবপুরে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

ডাকাত ধরার নামে হত্যাযজ্ঞ ; পুঠিয়ায় অজ্ঞাত ৩০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

Reporter Name / ১৭০ Time View
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

বানী ইসরাইল হিটলার,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে পদদলিত করে সংঘটিত হলো আরেকটি নৃশংস গণপিটুনির ঘটনা। জনতার উন্মত্ততায় প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। এই ভয়াবহ ঘটনার পর অবশেষে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। দুই মামলাতেই বাদী পুঠিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার চকপলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে আটক করে স্থানীয় কিছু লোক। কিন্তু আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরিবর্তে তারা নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও আইনপ্রয়োগকারী সেজে ওঠে। আটজনকে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

এই নিষ্ঠুর হামলায় মো. শাহীন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহীন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

গণপিটুনিতে আহত অপর সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— পুঠিয়ার চকপলাশি গ্রামের মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকার মো. শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাই উপজেলার নানজেগুড়ি গ্রামের মো. খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের মো. মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মো. রূপচান (৩০)।

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্রসহ ওই দলটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করেছিল—এমন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ট্রাকসহ তাদের আটক করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে উন্মত্ত জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহীনকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি সমাজকে কেবল আরও সহিংস, বর্বর ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com