March 5, 2026, 8:08 pm
নজরুল ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
হিমাগার থেকে বাজারে আসছে পুরনো আলু। কিন্তু চলতি মৌসুমে আলুর দাম নেমে এসেছে কেজি প্রতি মাত্র ১৫ টাকায। যা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় আলু চাষি ও ব্যাবসায়িরা। তাদের অভিযোগ এ দামে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা ন্যূনতম শ্রমের মূল্যও উঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরিয়া, ডিএপি সার এবং বিভিন্ন ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় আলু চাষের খরচ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। অথচ বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।
একাধিক আলু চাষি জানান, মাঠ থেকে আলু তুলে বাজারে আনতে পরিবহন খরচ যোগ হচ্ছে আলাদা। সব মিলিয়ে কেজি প্রতি উৎপাদন খরচ যেখানে ১৪ থেকে ১৮টাকা সেখানে ১৫ টাকায় বিক্রি করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফলে অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেও পারছেন না। কারণ হিমাগারের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই।
চাষিদের অভিযোগ বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হিমাগারে আলু রাখতে পারছেন না আবার বাজারেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এতে করে পুরো মৌসুমটাই লোকসানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ জানান, ধার-দেনা করে চাষাবাদ করলেও এখন সেই ঋণ পরিশোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
স্থানীয়দের মতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে আলু চাষিরা আরও বড় সংকটে পড়বেন। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, হিমাগার ভাড়ায় ছাড় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান অবস্থায় আলু চাষিরা খুবই কঠিন সময় পার করছেন। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষি কাজ চালিয়ে যাওয়াই এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।