• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০
শিরোনামঃ
নওগাঁ ছেড়ে তাল বেলাল এখন পঞ্চগড়েদেবীগঞ্জে ২২ শত তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার পেল হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনদেবীগঞ্জ নওগাঁর মেধাবী অন্ধ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান: আশার আলো জ্বালালেন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম ধলু সাতক্ষীরা যুব ঐক্য পরিষদ” ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পোরশায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ বাকেরগঞ্জ ডিকেআইবি উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। নাজিরপুরে ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ, বাবাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর ধামইরহাটে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠান অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনিস আলীকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মহাদেবপুরে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

Reporter Name / ১১৫ Time View
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

নাজমুল হোসেন লাবলু, শিবচর উপজেলা প্রতিনিধিঃ একসময় নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র বসবাসের ঠিকানা। নদীপথে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো, গ্রামে গ্রামে সাপ খেলা দেখানো, ঝাড়ফুঁক ও ভেষজ ওষুধ বিক্রিই ছিল তাদের প্রধান পেশা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা ও সচেতনতা বদলে যাওয়ায় সেই পেশায় আর আগের মতো আয় নেই। ফলে জীবিকার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করে নতুনভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের একটি সরকারি পরিত্যক্ত সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রায় ৬০টি বেদে পরিবার। একসময় নৌকায় ভাসমান জীবন কাটালেও এখন তারা স্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াইশ জন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ জন স্থানীয় ভোটার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে তারা নিজেদের একটি স্থায়ী পরিচয় গড়ে তুলেছেন।আগে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঝাড়ফুঁক, সাপ খেলা ও ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে সেই পেশার চাহিদা অনেক কমে গেছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বেদেদের ঐতিহ্যবাহী পেশার প্রতি আগের মতো মানুষের আগ্রহ নেই। ফলে পুরনো পেশা ধরে রেখে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।এ কারণে অনেকেই এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরি, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। নারীরাও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও গৃহস্থালি কাজও করছেন। অবহেলা আর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর জীবন থেকে বেরিয়ে এসে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান তারা।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একসময় এসব পরিবার নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন, কেউ দিনমজুর, আবার কেউ ভ্যান কিংবা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। নারীরাও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও গৃহস্থালি কাজ করছেন।

বেদে আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে মানুষ ঝাড়ফুঁক ও বেদেদের চিকিৎসার ওপর বিশ্বাস করতো এখন আর বিশ্বাস করেনা আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সেই চাহিদা অনেক কমে গেছে। ফলে পুরনো পেশা ধরে রেখে পরিবার চালানো কঠিন হয়েগেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখনও অনেক পরিবার পিছিয়ে রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মকে লেখাপড়া শিখিয়ে ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

মাদবরেরচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুলতানা ফেরদৌসী বলেন, ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা পুরাতন সড়কের দুই পাশে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো বরাদ্দ এলে তাদের সহযোগিতা করা হয়। আগের মতো অনেকেই আর পুরোনো পেশায় নেই। জীবিকার তাগিদে তারা এখন বিভিন্ন নতুন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন, কেউ স্থায়ীভাবে ছোটখাটো ব্যবসা করছেন। এছাড়া অনেকে ভ্যানগাড়ি ও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের ছেলে-মেয়েরাও এখন স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। সমাজের মূল ধারায় যুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com