মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ
রাজধানীর কদমতলীতে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াত নেত্রীর ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। ঢাকা-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগ।
বিক্ষোভোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএনপি যদি নারীর ওপর এই বর্বরোচিত সহিংসতা বন্ধ না করে, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আবারও দেশের নারী সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের পক্ষে কদমতলীর ৫২ নং ওয়ার্ডের কাইল্লা পট্টি এলাকায় গণসংযোগ চলছিল। এসময় জামায়াত নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিকে হত্যার উদ্দেশ্যে যুবদলের একদল সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আজকের বিক্ষোভ মিছিলে হাজার হাজার নারী কর্মী অংশ নেন। মিছিলটি কদমতলীর কুদরত আলী বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন অভিযোগ করেন, “বিএনপি নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন ও নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। তারা আওয়ামী লীগের কায়দায় অস্ত্র ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, সারাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় একটি নির্দিষ্ট দলের ক্যাডাররা বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি মা-বোনেরা নিরাপদ না থাকে, তবে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।”
সমাবেশ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে কাজী মারিয়া ইসলামের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জামায়াত নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, মহিলা বিভাগ পরিচালিকা নারগিস খান, জোন পরিচালক রাবেয়া খানম এবং মহানগরীর আইটি পরিচালক তানহা আজমী প্রমুখ।