রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য র্যালি, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, নীলফামারীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষি উদ্যোক্তা, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং পরিচর্যার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন রক্ষার অন্যতম প্রধান সহায়ক।"
তিনি আরও বলেন, সরকারের সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি কৃষি উদ্যোক্তা, নার্সারি মালিক ও সংশ্লিষ্টদের মানসম্পন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ উৎপাদন এবং জনগণের কাছে সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘুরে দেখেন। স্টলে প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি মেলাকে আরও আকর্ষণীয়, জনসম্পৃক্ত ও সফল করতে কৃষি উদ্যোক্তা এবং নার্সারি মালিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নীলফামারীর উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল এবং রংপুর বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষি উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, বৃক্ষমেলা চলাকালে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অধিক হারে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠিানে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীলফামারী জেলাকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব জেলায় পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।